ভৈরবে মেঘনার পাড়ে দলবেঁধে প্রাতর্ভ্রমণ ও শরীরচর্চা
ভৈরবের কিশোরগঞ্জের মেঘনা সেতু ও নদী তীরবর্তী এলাকায় ১৪ আগস্ট প্রাতর্ভ্রমণ, শরীরচর্চা ও পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন দল নিয়ম করে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৪ আগস্ট ভৈরব, কিশোরগঞ্জের মেঘনা সেতু ও নদী তীরবর্তী এলাকায় দলবেঁধে প্রাতর্ভ্রমণ, শরীরচর্চা ও পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভৈরবে মেঘনা নদীর পাড়ে প্রতিদিন ভোরে বিভিন্ন দলের মানুষ প্রাতর্ভ্রমণ ও শরীরচর্চা করতে আসেন। ‘সূর্যের আগে উঠি’ প্রতিপাদ্য মেনে এবং ‘সূর্যের আগে উঠি’ স্লোগানে প্রায় পাঁচ বছর ধরে অন্তত চারটি বড় দল দলগত শরীরচর্চা করে আসছে।
এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন মফিজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সজল কুমার দেব, আল আমিন, আল উদ্দিন আলী, ইমরান হোসাইন, মঞ্জুরুল কবির, মঞ্জু মিয়া, আতাউর রহমান, নাসির উদ্দিন, কাজী উসমান গণি, আবদুল মতিন, রফিকুল ইসলাম, মনমোহন, মোশারফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন, ইদ্রিস মিয়া, মো. বাবুল, জাকির হোসেন, আবুল কাসেম, আলা উদ্দিন, কাইজার চৌধুরী এবং শামসুজ্জামান। এছাড়া এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কাকলি খেলাঘর আসর ভৈরব শাখা, ম্যারাথন দৌড় গ্রুপ, গাঙ সমিতি ও ট্যুরিস্ট ক্লাব নামের চারটি সংগঠন।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে মফিজুল ইসলামের দলের সদস্যসংখ্যা ১৫ জন। অন্যদিকে ছয় বছর ধরে সক্রিয় ‘এভারগ্রিন চত্বর’ দলের সদস্য প্রায় ৫০ জন। নিয়মিত এই শরীরচর্চা ও প্রাতর্ভ্রমণের ফলে অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে, যার একটি উদাহরণ হিসেবে হাবিবুর রহমানের ওজন ১০ কেজি কমেছে বলে জানা গেছে।
নিয়মিত প্রাতর্ভ্রমণ ও জীবনধারা পরিবর্তনের বিষয়ে মফিজুল ইসলাম বলেন, 'আগে রাত জেগে থাকতাম। সকালে উঠতে কষ্ট হতো। পরে কয়েকজন মিলে ঠিক করলাম, সূর্য ওঠার আগেই উঠব। এখন এটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।' বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ করে আবদুল মতিন জানান, 'বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন আমরা নিয়ম করে নদীর পাড়ে আসি।'
দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে কাজী উসমান গণি বলেন, 'আমাদের গ্রুপের সবাইকে সূর্যের আগে উঠতেই হয়। সকাল পৌনে ছয়টার মধ্যে নদীর পাড়ে আসতে হয়। ৩০ মিনিট ব্যায়াম ও ৩০ মিনিট হাঁটার পেছনে প্রতিদিন সময় দিই।' আর এভারগ্রিন চত্বর দলের সদস্যরা ব্যায়াম ও ইয়োগার পাশাপাশি শুক্রবার ভুনাখিচুড়ি খান এবং উচ্চ স্বরে হাসির চর্চা করেন।
শুধু শরীরচর্চায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রাতর্ভ্রমণকারীরা পরিবেশ সুরক্ষায়ও কাজ করছেন। প্রাতর্ভ্রমণকারীরা নদীর পাড়ে গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার কাজও করেন। এই বিষয়ে মো. বাবুল বলেন, 'হাঁটার পাশাপাশি গাছ লাগানো ও আগাছা পরিষ্কার আমাদের নিয়মিত কাজ।'
প্রাতর্ভ্রমণ ও ভ্রমণের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে শামসুজ্জামান বলেন, 'প্রাতর্ভ্রমণ থেকে মনে হয়েছে, সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে হলে ভ্রমণও করতে হবে। আমরা হাঁটি, দেশ ভ্রমণ করি।' এভাবে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীর পাড়ে প্রতিদিন ভোরে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন স্থানীয় প্রাতর্ভ্রমণকারীরা।








