বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে এসেছে সাড়ে তিন লাখ কেজির বেশি ইলিশ
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ভারত থেকে সাড়ে তিন লাখ কেজির বেশি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে এই মাছ আমদানি করেছে। মূলত ব্যবসায়ীদের আবেদনে সীমিত পরিসরে এই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ভারত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইলিশ মাছ আমদানি করা হয়েছে। বিগত দুই মাসে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাড়ে তিন লাখ কেজির বেশি অর্থাৎ ৩ লাখ ৫২ হাজার কেজি ইলিশ আমদানি করেছে। এসব মাছের আর্থিক মূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা। দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়াতে এবং ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদপ্তর এই সীমিত পরিসরের আমদানির অনুমতি দেয়।
আমদানिकीকৃত এই ইলিশের বেশিরভাগই আসছে ভারতের গুজরাট থেকে। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব মাছ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ইলিশ বেনাপোল বন্দরে এসে পৌঁছায়। মূলত গত দুই মাস ধরে স্থানীয় বাজারে ইলিশের ঘাটতি থাকায় আমদানিকারকরা এই উদ্যোগ নেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত তিন বছর ধরে ইলিশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। নদী দূষণ এবং নির্বিচারে জাটকা বা ছোট ইলিশ শিকারের কারণে উৎপাদন কমছে বলে জানা গেছে। মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ডঃ মোঃ খালেদ কনক জানান, ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চারশ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। গত সরকারের সময়ে সেটি কতটা কাজে লেগেছে বা কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। ইলিশ উৎপাদন কেন কমল, তার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত দুই মাস ধরে দেশীয় বাজারে ইলিশের সংকট রয়েছে। ডঃ মোঃ খালেদ কনক আরও বলেন, এবার বাজারে ইলিশ কম দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আবেদনে সীমিত পরিসরে কিছু আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইলিশ মূলত সাগরের মাছ এবং প্রজননের জন্য নদীতে আসে। সমুদ্র থেকেই হয়তো ভারতীয় জেলেরা মাছগুলো ধরে ফেলছে, যার ফলে আমাদের মজুত কমছে। এসব নানা কারণেই অল্প পরিমাণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির বিষয়ে মো. মনিরুল মামুন জানান, এর সঠিক কারণ জানা নেই। হয়তো ওপারে মাছ বেশি ধরা পড়েছে, সেজন্য এমনটি হতে পারে। আমাদের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমদানির অনুমতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা ইলিশ আমদানি করছেন, ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষও এর অনুমতি দিচ্ছে। মো. কামরুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তো তারা আমদানি করছেন। আবার লাভ না থাকলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করবেন কেন।
আমদানিকৃত এই ইলিশ নিয়ে স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বেনাপোল ও এর আশেপাশের যশোর অঞ্চলে এই আমদানিকৃত মাছ দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, এখানে ব্যবসায়ীদের অনেক লাভ হয় আমদানি করতে পারলে। গত দুই মাস ধরে বাজারে ইলিশের পরিমাণ খুবই কম থাকায় আমদানিকৃত মাছের বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের সামগ্রিক মৎস্য খাতে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও গবেষণা চলছে। মৎস্য অধিদপ্তর, যশোর জেলা মৎস্য অধিদপ্তর এবং মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট যৌথভাবে ইলিশের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার কারণগুলো নিয়ে কাজ করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ব্যবসায়ীদের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে এই ইলিশ আমদানি অব্যাহত রয়েছে।








