বাংলাদেশে মিলল বিরল লতানো উদ্ভিদ ‘বানরকলা’
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া গেছে বিরল লতানো উদ্ভিদ ‘বানরকলা’। Annonaceae পরিবারের এই উদ্ভিদে বিভিন্ন কার্যকর স্টেরয়েডস ও অ্যালকালয়েডস পাওয়া গেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের প্রকৃতিতে উদ্ভিদ গবেষকদের নজর কেড়েছে একটি বিরল লতানো উদ্ভিদ, যার স্থানীয় নাম ‘বানরকলা’। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘Uvaria hamiltonii’ এবং ইংরেজিতে এই উদ্ভিদটিকে ‘Eastern Uvaria’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। উদ্ভিদজগতের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও উপস্থিতি গবেষকদের মাঝে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিরল উদ্ভিদটি দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল ও এর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। এর ভৌগোলিক বিস্তৃতির মধ্যে রয়েছে মধুপুর, রেমা-কালেঙ্গা, চকরিয়া, শেরপুর, ময়মনসিংহ এবং রাজধানী ঢাকা। এসব অঞ্চলের পরিবেশ ও আবহাওয়া এই লতানো উদ্ভিদের টিকে থাকার জন্য উপযোগী বলে প্রতীয়মান হয়।
বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসারে, ‘বানরকলা’ উদ্ভিদটি ‘Annonaceae’ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারের উদ্ভিদগুলোর নানা ধরনের প্রাকৃতিকভাবেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ঔষধি গুণাবলি থাকে। ‘Uvaria hamiltonii’ প্রজাতিটি তার শারীরিক গঠন এবং কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের জন্য উদ্ভিদবিদদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
উদ্ভিদটির অন্যতম প্রধান শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে এর আকার ও উচ্চতা। পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বিরল লতানো উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দীর্ঘ এই লতাগুলো বনের অন্যান্য বড় গাছের ওপর ভর দিয়ে বা পেঁচিয়ে ওপরে উঠতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও, ভৌগোলিক উচ্চতা ও ভূমিরূপের বিচারে এই উদ্ভিদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নির্দিষ্ট উচ্চতার এলাকায় জন্মায়। তথ্যে জানা যায়, বানরকলা উদ্ভিদটি সাধারণত ৩০০ থেকে ৬০০ মিটার উচ্চतापযুক্ত এলাকার পরিবেশগত পরিসরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে।
রাসায়নিক বিশ্লেषণে এই উদ্ভিদের অভ্যন্তরে মূল্যবান উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ‘বানরকলা’ উদ্ভিদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কার্যকর স্টেরয়েডস এবং অ্যালকালয়েডস পাওয়া গেছে। উদ্ভিদের চিকিৎসাগত ও জৈব রাসায়নিক গুরুত্বের ক্ষেত্রে এই উপাদানগুলোর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের উদ্ভিদ নিয়ে নানা সময় গবেষণা পরিচালনা করে থাকেন। দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদের সংরক্ষণে ‘বানরকলা’ বা ‘Uvaria hamiltonii’ উদ্ভিদের বিস্তারিত গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।








