তীব্র দাবদাহে সাধারণ ওষুধের প্রভাব এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
তীব্র দাবদাহের মধ্যে সাধারণ কিছু ওষুধ শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রাসেলস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের ঘটনায় তা উঠে এসেছে। চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা চিকিৎসকদের পর্যালোচনায় এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

তীব্র দাবদাহের মধ্যে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার ওপর সাধারণ কিছু ওষুধের প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি নানা তথ্য সামনে এসেছে। ব্রাসেলস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো অঞ্চলে এই বিষয়টি নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে গরমের দিনে সাধারণ ওষুধ সেবনকারীদের জন্য ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডিপ্রেশন, এডিএইচডি, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ধরনের ওষুধগুলো শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করে থাকে, যা চরম গরমে মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
বিষণ্ণতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসএসআরআই এবং এসএনআরআই-এর মতো অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টগুলো মস্তিষ্কের সেরোটোনিনের মাত্রা প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই বিষয়টি অনেক রোগীই আগে থেকে বুঝতে পারেন না।
উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডাইউরেটিকস, এসিই ইনহিবিটর এবং এআরবি জাতীয় ওষুধগুলো শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি, এসব ওষুধ তৃষ্ণার স্বাভাবিক অনুভূতিকেও প্রভাবিত করে, যা গরমের দিনে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
অন্যদিকে, বিটা-ব্লকার জাতীয় ওষুধ ত্বকে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত উষ্ণতা বাইরে বের করে দেওয়ার যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া রয়েছে, তা বাধাগ্রস্ত হয়। এতে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে না এবং গরমে অস্বস্তি চরম আকার ধারণ করে।
২৮ বছর বয়সী ইলিয়ানা ওকুমুস তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার মুখ ঘামতে শুরু করতো। তিনি আরও জানান, ঠান্ডা হতে তার আধা ঘণ্টা, কখনও এক ঘণ্টাও লেগে যেতো। একদিন তার অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরের তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল এবং সে দিন তিনি প্রায় ১৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েছিলেন।
৩৬ বছর বয়সী ক্যারোলিন ফ্রেসিন এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, তার মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা এবং তিনি যে ওষুধগুলো খান, সেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি যতটা সচেতন ছিলেন, তারপরও এটি এমন একটি বিষয় ছিল যা তিনি একেবারেই জানতেন না। দাবদাহের সময় এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








