তপ্ত আবহাওয়া ও ব্যায়াম: বাড়ছে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মানুষের শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যাচ্ছে। এর ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অকালমৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরচর্চা করা কঠিন হয়ে ওঠে এবং এর ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি পড়তে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ’-এ। এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমাগত বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মানুষের শারীরিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দিতে পারে।
শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম কমে যাওয়ার এই প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পক্ষে আগের মতো নিয়মিত ও স্বাচ্ছন্দ্যে শরীরচর্চা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী ও মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে গবেষণায়। পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আর্জেন্টিনার গবেষক ক্রিশ্চিয়ান গার্সিয়া-উইতুলস্কি, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অলি জে এবং রেবেকা স্টিয়ার্নস এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও গবেষণা তুলে ধরেছেন।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মানুষের শারীরিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দেওয়ার ফলে অকালমৃত্যু ঘটতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে এর কারণে বছরে আনুমানিক ৪ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৭ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হতে পারে।
তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শরীরের অভিযোজন ক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত নিয়মিত গরমে ব্যায়াম করার পর মানবদেহে অভিযোজন তৈরি হতে ৭ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। কিন্তু চরম তাপপ্রবাহের মাত্রা এর চেয়ে অনেক বেশি হলে তা মানবদেহের সহনশীলতার বাইরে চলে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে মানুষের স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকার লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সচেতনতা এবং সাবধানতা অবলম্বন জরুরি।








