জাতীয় সংসদে তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে আলোচনা
জাতীয় সংসদে দেশের চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, লোডশেডিং এবং সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং দীর্ঘদিনের ভুল নীতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে দায়ী করেছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাতীয় সংসদে দেশের চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, লোডশেডিং এবং গ্যাস সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ, ঢাকা, বাংলাদেশে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ অধিবেশনে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি এবং জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
অধিবেশনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, নিছক কথামালার আড়ালে প্রকৃত সত্যকে লুকাতে চাই না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে। তিনি আরও যোগ করেন, আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। প্রতিমন্ত্রী বর্তমান সংকটের জন্য দীর্ঘদিনের ভুল নীতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে দায়ী করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন যে, ৮৮ শতাংশ সংকটের সমাধান করা সম্ভব হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।
সংসদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা হলো ১২,০০০ মেগাওয়াট। এই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন ১,৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। তবে বর্তমানে দেশীয় ও এলএনজি মিলিয়ে মাত্র ২,৩০০ থেকে ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহের এই ঘাটতি মেটাতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানানো হয়।
উৎপাদন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থার চিত্রও সংসদে উঠে আসে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বন্ধ ইউনিটের ক্ষমতা ৬১৬ মেগাওয়াট এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বন্ধ ইউনিটের ক্ষমতাও ৬১৬ মেগাওয়াট; এই দুটি ইউনিটই বর্তমানে কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে।
আমদানির ক্ষেত্রেও ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী আদানি গ্রুপ থেকে ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে আদানি থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় পাওয়া যাচ্ছে ১,১০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তিমতো পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দল দাবি করেছে যে, গত ৯ আগস্ট দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ৩,৭০০ মেগাওয়াট এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিরোধী দলের আরও দাবি, এটি ৫৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি।
আলোচনায় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, হাফিজউদ্দিন আহমদ এবং রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, উৎপাদন ইউনিটগুলোর কারিগরি ত্রুটি, আমদানীকৃত জ্বালানির ঘাটতি এবং সরবরাহের নানা সীমাবদ্ধতাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ, যা উত্তরণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।








