জাতীয় গ্যাস সংকটে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ
বাংলাদেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ বা আংশিক সচল রয়েছে। জ্বালানি সংকটের জেরে চলতি আগস্টে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, জাতীয় গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ বা আংশিক সচল রয়েছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে এবং সাধারণ মানুষকে তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
<প>বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে বর্তমানে ২১টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং আটটি কেন্দ্র আংশিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।<প>সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, এই গ্যাস সংকট না থাকলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারত। অথচ জ্বালানির অভাবে এই বিশাল সক্ষমতা অলস বসে আছে।<প>তীব্র এই সংকটের প্রভাব পড়েছে পুরো দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে। চলতি আগস্টে দেশজুড়ে গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, গত ১০ আগস্ট মধ্যরাতের পর লোডশেডিংয়ের মাত্রা ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকেছিল।<প>পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা সম্ভব হয় প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সরবরাহ আরও কমে প্রায় ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। এছাড়া পেট্রোবাংলার হিসাবে, শুধুমাত্র গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে দৈনিক ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়।<প>জ্বালানি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকা। তুলনামূলকভাবে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে এই খরচ ১০ থেকে ১৪ টাকা এবং তেলভিত্তিক কেন্দ্রে খরচ ২৫ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলে গ্যাস সংকটের কারণে সস্তা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।<প>পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য গ্যাসের বরাদ্দ বাড়িয়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা বেড়ে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট থেকে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।<প>তবে এই সংকট নিয়ে জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে মনির হোসেন চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, 'গ্যাস তথা জ্বালানি সংকট নিয়ে এখন আর লুকানোর কিছু নেই। সরকার দ্রুত আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল চালুর চেষ্টা করছে। কিন্তু এগুলোর কাজ শেষ করতে দুই বছর লেগে যাবে। এই মুহূর্তে এলএনজি আমদানি চালিয়ে যাওয়া ছাড়া গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর কোনো উপায় নেই।'







