খালি পেটে ব্যায়াম: কার্যকারিতা ও প্রভাব নিয়ে যা জানা জরুরি
খালি পেটে হালকা বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করলে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তির জন্য বেশি চর্বি ব্যবহার করতে পারে। তবে উচ্চ তীব্রতার ব্যায়ামের ক্ষেত্রে পেশিতে ক্লান্তি ও চোটের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

খালি পেটে ব্যায়াম করার প্রভাব এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে সম্প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিশেষাতারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। নিয়মিত শরীরচর্চা বা ফিটনেস সচেতন মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে যে, পেট খালি রেখে ব্যায়াম করা উচিত নাকি কিছু খেয়ে ব্যায়াম শুরু করা ভালো। এই বিষয়ে চিকিৎসকদের মতামত ও বৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনায় নানা দিক সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে হালকা বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করলে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তির জন্য তুলনামূলক বেশি চর্বি ব্যবহার করতে পারে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ বা ফিটনেস ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য এই ধরনের হালকা শরীরচর্চা একটি বিকল্প হতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে খালি পেটে ব্যায়াম করলেই জাদুকরিভাবে দ্রুত ওজন কমে যাবে।
দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওজন বা চর্বি কমানোর ক্ষেত্রে খালি পেটে ব্যায়াম করার বিশেষ কোনো বাড়তি সুবিধা সবসময় পাওয়া যায় না। এটি নির্ভর করে সারাদিনে মোট কতটুকু ক্যালোরি গ্রহণ করা হচ্ছে তার ওপর। মোট ক্যালোরি একই থাকলে শুধু খালি পেটে ব্যায়াম করার কারণে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্যায়ামের তীব্রতা ও ধরনের ওপর নির্ভর করে খালি পেটে থাকার ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। এ বিষয়ে ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডা. পুষ্পিন্দর সিং বাজাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার কার্ডিওর ক্ষেত্রে খালি পেটে ব্যায়াম একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প হতে পারে।
তবে সব ধরনের ব্যায়ামের জন্য খালি পেট উপযোগী নয় বলে সতর্ক করেছেন ডা. পুষ্পিন্দর সিং বাজাজ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, উচ্চ তীব্রতার ব্যায়াম, ভারী ওজন তোলা কিংবা অ্যাথলেটিক কন্ডিশনিংয়ের সময় শরীরে পর্যাপ্ত গ্লাইকোজেন না থাকলে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
পর্যাপ্ত শক্তির অভাবে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে ডা. পুষ্পিন্দর সিং বাজাজ আরও বলেছেন, এতে দ্রুত পেশিতে ক্লান্তি আসার পাশাপাশি ব্যায়ামের সময় শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখতে সমস্যা এবং চোটের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই ভারী বা উচ্চ তীব্রতার ব্যায়ামের আগে শরীরের শক্তির জোগান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।








