ইনানী জাতীয় উদ্যানে মিলল মেঘলা চিতা সহ ২৩ প্রজাতির প্রাণী
কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে দীর্ঘ এক বছর গবেষণা চালিয়ে ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে এই বনে মেঘলা চিতার ছবিও পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক জার্নালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কক্সবাজারের ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর আয়তনের ইনানী জাতীয় উদ্যানে চালানো এক গবেষণায় মোট ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী পাওয়া গেছে। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই গবেষণার ফলে ইনানী বনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।
গবেষণার অংশ হিসেবে ইনানী জাতীয় উদ্যানের ৩২টি জায়গায় মোট ১৫টি ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হয়। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে বনের ভেতরে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ক্যামেরা ট্র্যাপের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে এই বনে মেঘলা চিতার ছবি পাওয়া গেছে, যা গবেষকদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
এই গবেষণা কার্যক্রমে বিভিন্ন গবেষক ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। গবেষক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন বিপুল কৃষ্ণ দাস, মোহাম্মদ ফিরোজ জামান, অর্ণব সাহা, মোহাম্মদ জাসিমউদ্দিন, বাবলু মহাজান, প্রদীপ কুমার সরকার এবং আবদুল্লাহ আল কাউসার মিলন। এছাড়া গবেষণাটির সাথে বন বিভাগ, বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং গটিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি সম্পৃক্ত ছিল।
ইনানী জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণার বিস্তারিত তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। গবেষণা শেষে প্রাপ্ত ফলাফল নিয়ে তৈরি গবেষণাপত্রটি প্রখ্যাত 'জার্নাল ফর নেচার কনজারভেশন'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকদের দীর্ঘ এক বছরের প্রচেষ্টায় এই তথ্যগুলো সংকলিত হয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই গবেষণার মাধ্যমে ইনানী জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণী সমৃদ্ধির চিত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পেল।
বাংলাদেশের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা গবেষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ক্যামেরা ট্র্যাপ পদ্ধতির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে ইনানী জাতীয় উদ্যানের গভীর অরণ্যে বসবাসকারী দুর্লভ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।








