কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে ক্যামেরায় ধরা পড়ল মেঘলা চিতা
কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে গবেষকদের ক্যামেরা ট্রাপে প্রথমবারের মতো মেঘলা চিতার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ১৩ মাসব্যাপী পরিচালিত এই গবেষণায় মেঘলা চিতা ছাড়াও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর সন্ধান মিলেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে গবেষকদের ক্যামেরা ট্রাপের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মেঘলা চিতার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে এই তথ্য জানানো হয়। মূলত বন অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব গেটিনয়েন এবং বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।
<প>গবেষণাটি ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩ মাস ধরে পরিচালিত হয়েছে। ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর আয়তনের ইনানী জাতীয় উদ্যানের ৩২টি স্থানে ১৫টি ক্যামেরা ট্রাপ স্থাপন করে এই বন্য প্রাণী জরিপ ও গবেষণা চালানো হয়। এই গবেষণার মাধ্যমে বন্য প্রাণীর ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।<প>দীর্ঘ ১৩ মাসের এই গবেষণায় গবেষকদের ক্যামেরা ট্রাপে মেঘলা চিতার মোট পাঁচটি ছবি ধরা পড়ে। আইইউসিএন-এর তথ্য অনুযায়ী, মেঘলা চিতাকে বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এবং বৈশ্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইনানী বনে এই প্রাণীর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।<প>উক্ত গবেষণায় শুধু মেঘলা চিতা নয়, এর পাশাপাশি উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানরসহ মোট ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর সন্ধান মিলেছে। এই ২১টি বন্য প্রাণীর তথ্য ও উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে গবেষণার মাধ্যমে।<প>গবেষণা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ইনানী জাতীয় উদ্যানের মোট আয়তনের ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ ৩ হাজার হেক্টর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া উদ্যানের ভেতরে ২ হাজার ৮৮৭ হেক্টর এলাকায় গাছপালা উজাড় ও বন ধ্বংসের চিত্র উঠে এসেছে।<প>এই বিষয়ে গবেষক ও বিশেষজ্ঞ রেজা খান বলেন, 'ইনানীর বনে এটির উপস্থিতি বন্য প্রাণী সংরক্ষণে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সরকারের উচিত মেঘলা চিতার বসবাসের এলাকাকে চিহ্নিত করে বিশেষভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া। এখানে কাঠ আহরণ বন্ধ ও বসতি থাকলে সরিয়ে নেওয়া।'







