১৯৭৫ সালের আগস্টে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
১৯৭৫ সালের আগস্টের আগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রথম সামরিক অভ্যুত্থানে সপরিবারে নিহত হন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

১৯৭৫ সালের আগস্টের দিকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল। সব মিলিয়ে দেশে তখন দম বন্ধ হওয়ার মতো এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল বলে গবেষক ও বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বহুমুখী সংকটের কারণে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত হয় দেশের প্রথম সামরিক অভ্যুত্থান, যার ফলশ্রুতিতে সপরিবারে নিহত হন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
ওই সময়ে দেশে দুর্নীতি, লুটপাট ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল। তবে বিভিন্ন সূত্র ও গবেষকদের মতে, রিলিফের মাল দুঃস্থ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পেরে গম চুরি, চাল চুরি ও কম্বল চুরির ঘটনা ঘটত। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদদের পরিবার-পরিজনকে সহায়তার জন্য ২৭১টি চেক প্রদানের মতো ঘটনাও ঘটেছিল।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেছেন, বাকশালের কারণে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ওই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সুযোগ সেভাবে ছিল না বলেই সেনাবাহিনীর একটি অংশ ক্যু করার পথ বেছে নিয়েছিল। তিনি জানান, এমন সিদ্ধান্তের ফলে সেনা সদস্য এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, শেখ মুজিব তার দলের নেতাকর্মীদের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ না করে উল্টো প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, এম এ হামিদের মতে, তরুণ অফিসাররা এসময় ক্ষমতাসীন পার্টির বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছিল এবং পার্টির নেতারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেখ সাহেবের কাছে ক্রমাগত অভিযোগ তুলতেন। এর আগে ১৯৭৫ সালের শুরুর দিকে পুলিশের হাতে নিহত হন পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির শীর্ষ নেতা সিরাজ শিকদার। উল্লেখ্য, বহুমুখী রাজনীতি বাদ দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল। ওই সময়কার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যম যেমন দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক বাংলাতেও আলোচিত হতো, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছিল।








