১৫ আগস্ট: জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে নিহত হন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ২ মিনিট পড়া

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল disgruntled সেনাসদস্যের হাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিব জীবনের ৫৫ বছরের মধ্যে ১৪ বছরই কারাগারে কাটিয়েছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি সাড়ে তিন বছর দেশ শাসন করেন। তার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মূল বাণী ছিল—'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।'
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোরে ওই হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনসহ মোট ৪৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, শেখ আবু নাসের, কর্নেল জামিল, সিদ্দিকুর রহমান, সৈয়দ মাহবুবুল হক, শেখ ফজলুল হক মনি, আরজু মনি, আবদুর রব সেরনিয়াবাত, বেবি, আরিফ সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, সজীব সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান, জুলিয়াস সিজার ও বেনজির ভুট্টো। সে সময় বিদেশে (ব্রাসেলসের ব্রസ്സলস) থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা। হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং সে সময় তাজউদ্দীন আহমদসহ অন্যান্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও লরেন্স লিফশুলজের মতো গবেষকদের আলোচনায় আসে।
হিস্ট্রি এক্সট্রা ম্যাগাজিনের মতে, 'মুজিবুরের হত্যাকাণ্ড নবীন জাতিটিকে বহু বছরের জন্য ধারাবাহিক পাল্টা-ক্যু ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ডুবিয়ে দেয়।' এছাড়া বিবিসি হিস্ট্রি ম্যাগাজিনের জুন ২০২২ সালের তালিকায় বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে নিহত ৩০ জনেরও বেশি প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ৫ম অবস্থানে ছিলেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর আদালত ১৫ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। উচ্চ আদালতে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, যার মধ্যে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড এ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে। ১ জন আসামি বিদেশে মারা গেছেন এবং ৫ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
হ হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিচার কাজ শুরু করে। দীর্ঘকাল ১৫ আগস্ট সরকারি ছুটির দিন হিসেবে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হলেও, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তা বাতিল করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং পরবর্তীতে তা আরও ভেঙে ফেলা হয়। সমকাল, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব তথ্য উঠে এসেছে এবং সিআইএ, মুসলিম লীগ, জাসদ, বাকশাল ও যুবলীগের ভূমিকাও ইতিহাসে আলোচিত হয়েছে।








