১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হন শেখ মুজিবুর রহমান
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরের এক সামরিক অভিযানে ঢাকায় সপরিবারে নিহত হন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। এই অভ্যুত্থানের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বিদ্রোহাসীদের আইনি সুরক্ষা দেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত অন্ধকার ও রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়েছিল। ওই দিন ভোরে রাজধানী ঢাকায় সংঘটিত এক সামরিক অভিযানে সপরিবারে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। ইতিহাসের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক গতিপথকে সম্পূর্ণ চিরতরে পাল্টে দিয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এই সামরিক অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল আকস্মিক এক ভোরের অপারেশনের মাধ্যমে। অভ্যুত্থানটি সরাসরি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল, যারা মূলত মেজর ও ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের এই পূর্বপরিকল্পিত সশস্ত্র পদক্ষেপেই ঢাকার নিজ বাসভবনে সপরিবারে প্রাণ হারান শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭৫ সালের এই মর্মান্তিক সামরিক অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও সময়কাল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য যে, এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র এক বছর আগে, অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। সেই সংকটময় পরিস্থিতির পর পরই এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে।
শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পরেই দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বড় ধরনের রদবদল ঘটে। এই অভ্যুত্থানের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ নিজে রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন এবং নিজেকে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। তার এই ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থায় এক নতুন রাজনৈতিক সংকটের সূচনা হয়।
ক্ষমতা গ্রহণের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ একটি বিতর্কিত পদক্ষেপ নেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে জড়িত ও হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত বিদ্রোহাসীদের আইনি দায়মুক্তি প্রদান করেন। এই উদ্দেশ্যে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৫ জারি করা হয়, যার মাধ্যমে অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত খুনিদের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
১৫ আগস্টের এই সামরিক অভ্যুত্থান এবং এর পরবর্তী ঘটনাগুলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছিল। এই পটপরিবর্তন এবং ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারির মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থায় আইনের শাসন ও বিচার প্রক্রিয়ার পথ দীর্ঘ সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে এই সামরিক অভ্যুত্থান এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে আরও বেশ কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে জেনারেল জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে, যা আজও গভীর আলোচনার বিষয়।








