১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়ে ইউএনইপির প্রতিবেদন
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউএনইপি সম্প্রতি ‘লিমিটিং ওভারশুট’ শীর্ষক একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। এর প্রেক্ষিতে কঠোর জলবায়ু পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউএনইপি সম্প্রতি ‘লিমিটিং ওভারশুট’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হলো যখন বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জলবায়ু বিজ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে এটি নির্ধারিত হয়েছে যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১.৫°C এর বেশি বৃদ্ধি পাবে। এই মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পৃথিবীর পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) পক্ষ থেকে জোরালো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তা ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, তাপমাত্রা যদি ১.৫°C এর ওপরেই থেকে যায়, তবে তার কোনো ভালো ফলাফল বা পরিণতি আসবে না।
ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন আরও ব্যাখ্যা করে বলেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যে চরম দাবদাহের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবগুলো অনেক দ্রুত আঘাত হানবে। এগুলো আরও বেশি তীব্রভাবে আঘাত হানবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। এর ফলে আরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটবে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে গভীর ও মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হবে।
তবে এই সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায়ও বাতলে দিয়েছেন ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এখন সময় এসেছে জলবায়ু পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিগুণ জোর দেওয়ার বা প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দেওয়ার। আমরা সঠিক পথে আসতে পারি এবং আমাদের আসতেই হবে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর মাধ্যমে, জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন শক্তি জোরদার করার মাধ্যমে এবং তাপমাত্রা ১.৫°C অতিক্রম করার বিষয়টি যতটা সম্ভব কম ও স্বল্পস্থায়ী করার মাধ্যমে এটি অর্জন করা সম্ভব।
এদিকে, প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক নীতি ও পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কিছু পরস্পরবিরোধী বাস্তব চিত্রও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ সরকার উভয়েই তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাগুলোর শিথিলতা ঘটিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।
সব মিলিয়ে, ইউএনইপির এই ‘লিমিটিং ওভারশুট’ প্রতিবেদনটি বিশ্ববাসীকে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একদিকে তাপমাত্রার পারদ ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস এবং অন্যদিকে প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘটনা জলবায়ু সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বনেতারা ইঙ্গার অ্যান্ডারসেনের এই সতর্কবার্তায় কতটা কর্ণপাত করেন এবং ভবিষ্যতে জলবায়ু রক্ষায় কেমন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।








