হিমালয়ে হিমবাহ গলনের তীব্র ঝুঁকি, বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ
জলবায়ু সংকটের কারণে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও জলবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ভবিষ্যতে হিমবাহের বন্যার কারণে মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে হিমালয় অঞ্চল। জলবায়ু সংকটের ফলে হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে দ্রুত ত্বরান্বিত হচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সম্প্রতি নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত বন্যায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু নেপালেরই প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে, যা দেশটির সামগ্রিক জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
দুর্যোগের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গের কাছে হিমবাহের একটি অংশবিশেষ হঠাৎ ধসে পড়ে। এই বরফখণ্ড উপত্যকার সমতলে এসে পড়ার কারণে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয় এবং চারপাশের জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এর আগে ২০২০ সালে নেপাল, চীন এবং ভারতে যৌথভাবে পরিচালিত মূল্যায়নে মোট ৪৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদ চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে মানবিক ক্ষতিও হয়েছে প্রচুর। হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এখন পর্যন্ত চলমান বন্যায় অন্তত ১০৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে এই আকস্মিক বন্যায় ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা লাখ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির কর্মকর্তা কানি উইগনারাজা। তিনি দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হিমবাহ হ্রদের উপচে পড়া পানি ধারণকারী এই বিশাল নদী ব্যবস্থাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি রোধ করার জন্য প্রযুক্তি যথেষ্ট দ্রুত এগোতে পারছে না।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে হিমালয় অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে হিমবাহ হ্রদের ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।








