হিজরতের রাতে রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন রক্ষায় আলীর (রা.) সাহসিকতা
মক্কায় তেরো বছর দাওয়াত ও নিপীড়নের পর ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নবীজির হিজরত সম্পন্ন হয়। হিজরতের রাতে রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন রক্ষায় আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) অনন্য সাহসিকতার পরিচয় দেন এবং বিছানায় চাদরমুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

মক্কায় তেরো বছর একটানা দ্বীনের দাওয়াত প্রচার ও নানা ধরনের নিপীড়নের মুখোমুখি হওয়ার পর নবীজি (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঐতিহাসিক এই হিজরতের ঘটনাটি ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। মক্কা ও মদিনা জুড়েই এই হিজরতের বিভিন্ন স্মৃতি ও প্রেক্ষাপট ছড়িয়ে রয়েছে।
ইসলাম ধর্মে হিজরতের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন মক্কার মুশরিক নেতারা দারুন-নদওয়ায় এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। সেই বৈঠকে তারা নবীজিকে (সা.) হত্যার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করে, যাতে ইসলাম প্রচারের ধারা চিরতরে থামিয়ে দেওয়া যায়।
মুশরিকদের এই গভীর চক্রান্ত ও জীবননাশের পরিকল্পনার কথা জানার পর হিজরতের রাতে এক অবিশ্বাস্য সাহসিকতার পরিচয় দেন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)। তিনি নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে নবীজির বিছানায় চাদরমুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকেন, যাতে শত্রুরা বুঝতে না পারে যে নবীজি ইতিমধ্যে ঘর ছেড়ে চলে গেছেন।
পরদিন সকালে মক্কার মুশরিকরা তরবারি হাতে নবীজির ঘরে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে। কিন্তু তারা বিছানায় নবীজির পরিবর্তে আলীজেন (রা.)-কে দেখতে পায়। শত্রুরা নিজেদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে দেখে চরম ক্ষুব্ধ হয় এবং আলীজেন (রা.)-কে প্রহার করে ও কিছু সময়ের জন্য আটক রাখে।
মুশরিকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নবীজি নিরাপদে মদিনার পথে যাত্রা করার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আলী (রা.)-এর কাঁধে অর্পিত হয়েছিল। নবীজির কাছে মক্কাবাসীর যেসব মূল্যবান আমানত রাখা ছিল, সেই আমানতগুলো যথাযথভাবে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আলী (রা.) অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করেন।
মক্কার সমস্ত আমানত ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিজের ওপর অর্পিত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) পরবর্তীতে মদিনায় হিজরত করেন এবং নবীজির সঙ্গে মিলিত হন। হিজরতের এই রাতে তাঁর বীরত্ব ও আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।








