হাসপাতালের বিছানায় বৃদ্ধের স্বাক্ষর নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এক শারীরিক দুর্বল বৃদ্ধের নথিতে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করছেন এক নারী। এ ঘটনায় জমি হস্তান্তর ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই ভিডিওটিতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা অত্যন্ত শারীরিক দুর্বল এক প্রবীণ ব্যক্তির নথিপত্রে জোরপূর্বক বা কৌশলে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করছেন এক নারী। এই ঘটনার পরেই মূলত জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া এবং এর আইনগত বৈধতা ও নিবন্ধন পদ্ধতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে জমি নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন মূলত কয়েকটি প্রধান আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং ১৮৯৯ সালের স্ট্যাম্প আইন। এসব আইনের অধীনে সম্পত্তি কেনাবেচা ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও বিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা জমির মালিকানা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
আইনের বিধান অনুসারে, সাধারণ বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে দলিলের মূল মূল্যের ওপর ১ শতাংশ হারে রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। পাশাপাশি, সাধারণ বিক্রয় দলিলের জন্য ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প ডিউটি বা শুল্ক পরিশোধ করার নিয়ম রয়েছে। এসব আর্থিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার মাধ্যমেই মূলত জমি নিবন্ধনের আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
তবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলোর একটি হলো পক্ষগুলোর উপস্থিতি ও স্বাক্ষর নিশ্চিত করা। ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী, দলিলের সম্পাদনকারী বা executors-দের অবশ্যই নির্দিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তার সামনে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়। সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই এবং দলিলের সম্পাদন নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যাতে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় দলিলের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি হস্তসান্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত দলিলগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই আইনের ৪৯ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, অনিবন্ধিত কোনো দলিল কোনো ধরনের সম্পত্তি বা স্বত্ব সৃষ্টি করতে পারে না কিংবা আইনগতভাবে সম্পত্তির অধিকার হস্তান্তরও করতে পারে না।
এদিকে, কোনো ব্যক্তি যদি শারীরিকত অসুস্থ বা অক্ষম হন, তবে তার জন্য আইনে বিশেষ ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী, শারীরিক দিক থেকে অসুস্থ বা অক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরাসরি অফিসে উপস্থিত হওয়া থেকে অব্যাহতি কিংবা কমিশন পদ্ধতির মাধ্যমে বিশেষ বিধান অনুসরণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের সাব-registrar এবং ভূমি নিবন্ধন বিশেষজ্ঞ মো. শাহাজাহান আলী। হাসপাতালের বিছানায় এমনভাবে অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তির স্বাক্ষর নেওয়ার ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মাঝে জমি হস্তচান্তর ও এর আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সচেতনতা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।








