হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, মৃত্যু ছাড়াল ৮৭০
বাংলাদেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৮৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু এবং ৯৮৮ নতুন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
ঢাকাপ্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে হাম-সংশ্লিষ্ট নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর সম্মিলিত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭৩ জনে।
রোববার (৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। নতুন ছয়টি মৃত্যুর ঘটনাকেই সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন মৃত্যুই বেশি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, মোট ৮৭৩ মৃত্যুর মধ্যে ৭৭৫ জনের মৃত্যু সন্দেহভাজন হাম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮ জন।
অর্থাৎ আক্রান্তদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে হামসদৃশ উপসর্গ থাকলেও সব মৃত্যুকে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।
একদিনে নতুন সন্দেহভাজন রোগী ৯৮৮
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯৮৮টি সন্দেহভাজন হাম আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে এ ধরনের সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ জন।
একই সময়ে পরীক্ষাগারে আরও ৭৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ১১৫ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি লাখের বেশি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
এর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
টিকাদান কার্যক্রম জোরদার
হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৪ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নজরদারির আওতায় আনাও জরুরি।
দেশজুড়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই পরিস্থিতিতে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, র্যাশসহ হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।







