হরমুজ প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের শিকার হয়েছে সৌদি তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার ও লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ভিএলসিসি 'সেনেগাল প্রসপারিটি'। ওমানি করিডোরের এই ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সোমবার গভীর রাতে ওমানি করিডোরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বহির্গমনের সময় বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি তেলবাহী দুটি সুপারট্যাঙ্কার ও লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ভিএলসিসি 'সেনেগাল প্রসপারিটি' ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত গোয়েন্দা ও ট্র্যাকিং সংস্থা মারিস্কস এবং কেপলারের তথ্যের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, গত সপ্তাহে জুয়াইমাহ টার্মিনালে এই ট্যাংকারগুলো নোঙর করেছিল। সে সময় প্রতিটি ট্যাংকারে ২০ লাখ ব্যারেল করে সৌদি অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর তারা এই হামলার মুখে পড়ে।
ওমানের খাসাবের প্রায় ১৭ নটিক্যাল মাইল পূর্বে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ভিএলসিসি 'সেনেগাল প্রসপারিটি' জাহাজটি ভয়াবহ হামলার শিকার হয়। এই জাহাজটিতে মোট তিনটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হেনেছে। তবে সৌভাগ্যের বিষয় হলো, এই বিপজ্জনক হামলার পরও জাহাজের সকল নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলটি দিয়ে ঐতিহাসিকভাবেই জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হতো এই প্রণালিটি দিয়েই। ফলে এই ধরনের সামরিক বা সন্ত্রাসী আক্রমণ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বর্তমান এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কড়া নজর রাখছে। মারিস্কস জানিয়েছে যে, প্রায় একই সময়ে ঘটা এই ঘটনাগুলো ওমানি করিডোরের হুমকি পরিস্থিতিকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। খাসাব ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের জলসীমায় এমন হামলা সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এই ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা শক্তির সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিস্তারিত না থাকলেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, কাতার ও ওমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশের নজর এখন এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তার দিকে।
সৌদি আরামকো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান এই রুট আক্রান্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।








