হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও কূটনীতি: এশীয় অর্থনীতিতে প্রভাব
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আগস্ট ২০২৬-এর ৩০ তারিখ থেকে বিশকেক ও নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এই সংকটের পটভূমিতে প্রণালিটি পুনরায় সচল করার উপায় নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো, যা বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের ৪৪ শতাংশ কিনত চীন ও ভারত। এছাড়া জাপানের আমদানি করা তেলের ৯৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৭০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসত। পাশাপাশি, বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজির ৯০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে আসত। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর এর বহুমুখী প্রভাব দৃশ্যমান। চীনের হাতে প্রায় ১৪০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি মজুত রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে চীনে নতুন গাড়ি বিক্রির ৫৪ শতাংশ ছিল বৈদ্যুতিক গাড়ি, যার ফলে চীন প্রতিদিন প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার তেলের চাহিদা কমিয়েছে। অন্যদিকে, ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈচিত্র্য আনার ফলে ২০২৬ সালের জুনে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির অর্ধেকের বেশি এসেছে রাশিয়া থেকে।
জ্বালানি বাজারের এইল ওলটপালট পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ভূমিকাও লক্ষ্য করা গেছে। তেল আমদানির ধারা পরিবর্তনের কারণে রাশিয়া অতিরিক্ত ১৩০ কোটি থেকে ১৯০ কোটি ডলার আয় করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ১৩০-১৪০টি থেকে কমে এক অঙ্কে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা নির্দেশ করছে।
এর আগে সংকটের নানা মোড় দেখা গেছে। এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্মতি দেন। এছাড়া ১৯৭৯ সালের পর প্রথম সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই আলোচনায় যুক্ত ছিলেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে আগস্টের ৩০ তারিখ থেকে ইরানকে ঘিরে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হবে। প্রথমে বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলন এবং পরবর্তীতে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই সম্মেলনে হরমুজ প্রণালি খোলার উপায় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।








