মূল কনটেন্টে যান
ব্রেকিং
BDRevise24 — Trusted & Targeted News

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — HEADER

স্ত্রীকে 'আপু' বা বোন ডাকলে কি তালাক হয়? যা বলছে ইসলাম

ইসলামে স্ত্রীকে 'আপু' বা বোন জাতীয় শব্দে সম্বোধন করা নিয়ে সম্প্রতি জাগো নিউজ বিশদ ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে। হাদিসের আলোকে জানা যায়, এমন ডাক মাকরুহ বা অপছন্দনীয় হলেও এতে কোনো তালাক হয় না।

বিডিরিভাইস২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: · মিনিট পড়া

স্ত্রীকে 'আপু' বা বোন ডাকলে কি তালাক হয়? যা বলছে ইসলাম
ছবি: জাগো নিউজ

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — ARTICLE_TOP

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন পারিবারিক সম্বোধন ও এর ইসলামিক বিধান নিয়ে নানা সময় প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ। ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ইসলামি শরিয়তে একজন স্বামী কর্তৃক তার স্ত্রীকে 'আপু' বা বোন বলে ডাকা জায়েজ নয়, বরং এটি মাকরুহ বা অপছন্দনীয় হিসেবে গণ্য করা হয়।

এই বিধানের মূল ভিত্তি রয়েছে হাদিসশাস্ত্রে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে বোন বা এ জাতীয় অন্য কোনো রক্তের সম্পর্কের নামে ডাকতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে হাদিসে একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। একবার আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীকে বোন বলে সম্বোধন করতে শুনেছিলেন। তখন নবীজি (সা.) তাকে তিরস্কার করে প্রশ্ন করেছিলেন, 'সে কি তোমার বোন?' এই ঐতিহাসিক ও শরিয়তসম্মত ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই মূলত স্ত্রীকে এই ধরনের শব্দে ডাকতে নিষেধ করা হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে এক ধরণের ভুল ধারণা বা আতঙ্ক কাজ করে যে, এমন ডাক দিলে হয়তো বৈবাহিক সম্পর্ক অর্থাৎ তালাক হয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, স্ত্রীকে 'আপু' বা বোন ডাকলে কোনো তালাক সংঘটিত হয় না। এমনকি এর জন্য শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো ধরনের কাফ্ফারা বা প্রায়শ্চিত্ত আদায় করারও প্রয়োজন হয় না। তালাক বা বৈবাহিক সম্পর্কচ্ছেদের সঙ্গে এই শব্দের কোনো আইনি বা শরিয়তসম্মত সম্পৃক্ততা নেই।

ইসলামের ইতিহাসে পারিবারিক সম্বোধন ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইব্রাহিমীয় সুন্নাহ ও সাহাবিদের আমলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ্‌র রাসুল ইবরাহিম (আ.) এবং তার স্ত্রী হাজেরা ও পুত্র ইসমাইল-এর ঘটনা কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। একবার মরুভূমির জনমানবহীন উপত্যকায় হাজেরা উদ্বিগ্ন হয়ে ইবরাহিম (আ.)-কে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, 'হে ইবরাহিম, তুমি আমাদের এমন জনমানবহীন উপত্যকায় রেখে কোথায় যাচ্ছ?' ইসলামি শরিয়তে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর সবসময় জোর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ইসলামের সোনালী যুগেও পারিবারিক সম্পর্কের নানা নজির রয়েছে। ইসলামী ইতিহাস ও হাদিস বর্ণনায় আবু তমিমা আল জুহামী (রা.) এবং প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতো মহান ব্যক্তিদের নাম পাওয়া যায়, যারা শরিয়তের নানা বিধিবিধান মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই দাম্পত্য জীবনে শরিয়তের বিধান মেনে চলা আবশ্যক।

ইসলামী বিশেষজ্ঞরা সবসময় পরামর্শ দেন যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক হওয়া উচিত অত্যন্ত মধুর ও সম্মানজনক। স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরকে সম্মানজনক নামে সম্বোধন করা, যা তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাকে প্রকাশ করে। এছাড়া এমন কোনো সুন্দর বা পছন্দসই ডাকনাম বা কুনিয়াত ব্যবহার করা যেতে পারে, যা উভয়ের জন্যই আনন্দদায়ক হয় এবং শরিয়তের কোনো বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় না।

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — IN_ARTICLE

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

সব দেখুন
মালদ্বীপে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব
ধর্ম

মালদ্বীপে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব

মালদ্বীপের পর্যটনকেন্দ্রিক রিসোর্ট এলাকার বাইরে স্থানীয় দ্বীপগুলোতে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব রয়েছে। রাজধানী মালে শহরে ৩০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে এবং এখানে ১৬৫৮ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক হুকুরু মিস্কি অবস্থিত। ইউনেসকোর ঐতিহাসিক বিবরণে মালদ্বীপে ইসলাম গ্রহণের সময়কাল ১১৫৩ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১ মিনিট পড়া
পিতামাতার আর্থিক অসদাচরণ ও প্রতারণায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
ধর্ম

পিতামাতার আর্থিক অসদাচরণ ও প্রতারণায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে পিতামাতার প্রতি সর্বোচ্চ সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তাদের অনৈতিক বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সন্তানের সম্পদে অন্যায়ভাবে দেনা তৈরি করা সম্পূর্ণ হারাম।

১ মিনিট পড়া
তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণ করলেন শেভন নামের পর্যটক
ধর্ম

তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণ করলেন শেভন নামের পর্যটক

তুরস্কের মারদিন প্রদেশের আরতুকলু জেলা মুফতির কার্যালয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন শেভন নামের এক পর্যটক। ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ রাখেন।

১ মিনিট পড়া
ওহুদের ময়দানে শহীদ হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)
ধর্ম

ওহুদের ময়দানে শহীদ হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)

ওহুদ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শহীদ হন হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)। অপবিত্র অবস্থায় গোসল না করেই রণক্ষেত্রে যোগ দেওয়ায় ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়েছিলেন বলে জানান মহানবী (সা.)। এই অলৌকিক ঘটনার কারণে তিনি 'গাসিলুল মালাইকা' বা ফেরেশতা কর্তৃক গোসলপ্রাপ্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।

১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — FOOTER