সুবর্ণচর হাসপাতালে হামের রোগীর চাপ, ওষুধ ও সিটসংকট
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর প্রচণ্ড চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় এবং ওষুধ সংকট ও চড়া খরচে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর ব্যাপক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার ও সোমবার এই পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে অনেকেই চরম আর্থিক ও শারীরিক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ২৮ বছর বয়সী কামরুন নাহার তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে হাসপাতালে আসা শিশুরা হলো ৬ বছরের মো. আসাদ, ৮ বছরের ফাতেমা আক্তার, ৩ বছরের বিবি জান্নাত এবং ১ বছরের ইলিয়াস। কামরুন নাহারের সঙ্গে থাকা স্বজনদের মধ্যে শামছুল হক, মো. মহিউদ্দিন, মো. সোহেল সারওয়ার, আবদুর রহিম ও মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। কামরুন নাহার জানিয়েছেন, চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ তাঁর ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এই টাকা মেটাতে তাঁকে ১ হাজারে প্রতি মাসে ১০০ টাকা সুদে ৮ হাজার টাকা ধার করতে হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। গত সোমবার সকালে হাসপাতালে ৫৬ জন রোগী ভর্তি ছিল। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৪৪৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৯০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি মূলত ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল। তবে এখানে প্রতিদিন গড়ে ১১০ থেকে ১২০ জন রোগী ভর্তি থাকে। রোগীর এই অতিরিক্ত চাপের বিপরীতে হাসপাতালটি থেকে মাত্র ৫০ জনের ওষুধ বরাদ্দ পাওয়া যায়, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আবদুল্লা হিল রাকিব বলেন, "এখানে গ্রাম এলাকা, তাই সচেতনতার অভাবে একজন থেকে অন্যজনের মাঝে হাম ছড়িয়ে পড়ছে। একই পরিবারের একাধিক শিশু কিংবা বয়স্ক ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রোগীই হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে।"
অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের অভাবে রোগীদের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এবং বিভিন্ন দিক থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।








