নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ‘ধানের শীষ’ গ্রামের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ‘ধানের শীষ’ গ্রামটি একসময় ‘পোড়াচর’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭৭ সালে ভূমিহীন মানুষের বসতি স্থাপনের পর নানা ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে গ্রামটির বর্তমান নামকরণ ও জনবসতি গড়ে ওঠে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নোয়াখালী জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুবর্ণচর উপজেলার একটি ব্যতিক্রমী জনপদের নাম ‘ধানের শীষ’ গ্রাম। প্রমত্ত মেঘনা নদীর ভাঙনে ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে পুরনো নোয়াখালী শহর বিলীন হয়ে যাওয়ার পর ১৯৬০-এর দশকের দিকে এই অঞ্চলে একটি নতুন চর জেগে ওঠে। পরবর্তীতে এই নতুন চরে মানুষের বসতি ও জীবনযাত্রা শুরু হয়।
এই অঞ্চলের শুরুর ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, হাতিয়া ও অন্যান্য এলাকার ভূমিহীন মানুষেরা ১৯৭৭ সালের দিকে এই চরে এসে বসবাস শুরু করতে শুরু করে। ওই সময়ে বসতি স্থাপনকারী পরিবারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০০। তবে শুরুর দিকে এই জনপদে জীবনযাত্রা এতটা সহজ ছিল না।
বসতি স্থাপনের পরপরই ১৯৭৮ সালের মাঝামা সময়ে পার্শ্ববর্তী চরলক্ষ্মী এলাকার জবরদখলকারীদের একটি হামলার শিকার হয় এই এলাকা। এই হামলার ঘটনার পর একটি আদালত মামলা পরিচালনা করে এবং বিচারে ২১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
ওই ঘটনার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হাতিয়া সফর করেন এবং পোড়াচর সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। রাষ্ট্রপতির সেই সফরের পর জেলা প্রশাসনের জরিপ ও নামকরণের মাধ্যমে এই এলাকার মৌজা এবং পরবর্তী সময়ে গ্রামটির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয় ‘ধানের শীষ’ গ্রাম।
বর্তমানে এই ‘ধানের শীষ’ গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ৩৫,০০০ এবং এখানকার ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩,২০০ জন। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এই গ্রামটিতে এখন মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমান ওরফে নিশান বলেন, ‘অন্য এলাকায় নিয়মিত নানা ঝামেলা লেগে থাকলেও এই গ্রামের মানুষ শান্তিপূর্ণ। এখানে সবার সহাবস্থান রয়েছে।’ গ্রামের সার্বিক জীবনযাত্রার সাথে এখন শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও যুক্ত হয়েছে।
গ্রামের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা ১৯৯১ সালে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ২৩0 জন। এছাড়া এই গ্রামে ১২টি মৎস্য খামার এবং ৮টি গবাদি পশু বা পোলট্রি খামার রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। প্রথম আলো-র তথ্যানুযায়ী এই জনপদের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থার এসব তথ্য উঠে এসেছে।








