সাতছড়িতে দুর্লভ ফুলটুসী পাখির দেখা ও বৈশিষ্ট্য
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দুর্লভ প্রজাতির ফুলটুসী পাখি দেখা গেছে। বৈজ্ঞানিক নাম Psittacula roseata হওয়া এই পাখিটি ফুলটুসী, ফরিয়াদি, টুই, কইরিদি টিয়া বা ফুলমাথা টিয়া নামেও পরিচিত।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্যে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে দুর্লভ প্রজাতির ফুলটুসী পাখি। দেশের বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির মাঝে এই পাখিটির উপস্থিতি বেশ আকর্ষণীয়। বিশেষ করে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে এই পাখিটির উপস্থিতি ও নানা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা গেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে পাখিপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে এটি অত্যন্ত কৌতূহলের বিষয়।
ফুলটুসী পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Psittacula roseata বা সিটাকুলা রোসিয়েটা। স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। ফুলটুসী ছাড়াও পাখিটি ফরিয়াদি, টুই, কইরিদি টিয়া কিংবা ফুলমাথা টিয়া নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ ছাড়াও চীনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই পাখির বিস্তৃতি রয়েছে। এসব অঞ্চলের বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় এদের বসবাস লক্ষ করা যায়।
শারীরিক গঠনে ফুলটুসী বেশ আকর্ষণীয় একটি পাখি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৩০ থেকে ৩৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাশাপাশি এদের শরীরের ওজন প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ গ্রামের মধ্যেসীমাবদ্ধ থাকে। এদের দৈহিক এই পরিমাপ পাখিটিকে অন্যান্য ছোট বা মাঝারি আকারের পাখি থেকে আলাদা করে চেনার সুযোগ করে দেয়।
এই পাখির প্রজনন প্রক্রিয়া বেশ নির্দিষ্ট একটি সময়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে। প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময়টি হলো ফুলটুসীর প্রজননকাল। প্রজনন ঋতুতে এরা বংশবৃদ্ধির প্রস্তুতি নেয়। স্ত্রী ফুলটুসী পাখি সাধারণত একসাথে চার থেকে পাঁচটি সাদা রঙের ডিম পাড়ে। এরপর যথাযথ তা দেওয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে ডিম থেকে ছানা বের হয়ে আসে।
ডিম ফোটার প্রক্রিয়া শেষ হতে নির্দিষ্ট সময় লাগে। সাধারণত ২২ থেকে ২৪ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। ডিম থেকে ফোটার পর ছানারা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। জন্ম নেওয়ার পর প্রায় ৪২ থেকে ৫০ দিনের মাথায় ছানারা উড়তে শিখতে পারে এবং স্বাধীনভাবে চলাচল শুরু করে।
বন্য পরিবেশে ফুলটুসী পাখির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৭ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে নিরাপদ ও আবদ্ধাবস্থায় যথাযথ যত্ন পেলে এরা ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। সামগ্রिक বিবেচনায় সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে এই ফুলটুসী পাখির উপস্থিতি দেশের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








