শ্রীপুরে মৌসুমের শেষে চড়া কাঁঠালের দাম
মৌসুমের শেষ সময়ে গাজীপুরের শ্রীপুরের বাজারগুলোতে কাঁঠালের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে আকারভেদে প্রতিটি কাঁঠাল এখন ২০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৪৬· ১ মিনিট পড়া

মৌসুমের শেষ সময়ে গাজীপুরের শ্রীপুরের বাজারগুলোতে জাতীয় ফল কাঁঠালের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। বুধবার প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সরবরাহ হ্রাসের কারণে স্থানীয় বাজারে ফলটির দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। বাজারে এখন খুব একটা কাঁঠাল দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।
বর্তমানে শ্রীপুরের বিভিন্ন বাজারে কাঁঠাল আকারভেদে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে কাঁঠালের সরবরাহ খুবই কম থাকায় কোথাও দু-একটি কাঁঠাল পাওয়া গেলেও শৌখিন ক্রেতারা উচ্চ দাম দিয়ে তা কিনে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কাঁঠালের সরবরাহ খুবই কম এবং শৌখিন ক্রেতারা বেশি দামেই এগুলো কিনছেন।
বেশি দামের বিষয়ে বিক্রেতা বিল্লাল হোসেন বলেন, এক হাজার টাকার এই কাঁঠাল সিজনে দাম ১০ টাকাও না। কিছু গাছে শেষ সিজনে কাঁঠাল ধরে এবং এগুলো তারা বেশি দামে কিনে আনেন। এই কাঁঠালগুলোর স্বাদও বেশি এবং মানুষও কিনে বেশি দামে। ক্রেতা মোহাম্মদ আলী এক হাজার টাকা দামের কাঁঠাল সম্পর্কে বলেন, এর দাম এক দাম ১ হাজার টাকা, মিষ্টি বেশি, কোষ বড় এবং গন্ধ মধুর মতো।
উৎপাদনের দিক থেকে, শ্রীপুরে এ বছর কাঁঠালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন। জানা গেছে, গত বছরেও প্রায় একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে ফলটির উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এমন দামের সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁঠাল চাষে কৃষকের লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইসলাম উদ্দিন বলেন, জাত বুঝে কাঁঠালগাছ রোপণ করতে পারলে কৃষকের লাভ অনেক বেশি হতে পারে, কারণ আগাম ও শেষ মৌসুমের কাঁঠালের আলাদা চাহিদা থাকে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে কিছু আগাম জাতের কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করেছে এবং সেগুলোর চারা কিছু নার্সারিতে সরবরাহ করছে। এসব জাতের মধ্যে কিছু জাত ১২ মাসি। এ বিষয়ে সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যে কিছু আগাম জাতের কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করে সেগুলোর চারা কিছু নার্সারিতে সরবরাহ করছে এবং এর মধ্যে কিছু জাত ১২ মাসি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাত বুঝে চারা রোপণ করতে পারলে কৃষকেরা কাঁঠালের ভালো দাম পেতে পারেন।








