১৯ কোটি টাকার সেতু অব্যবহৃত, ওপরে বসে সাপ্তাহিক হাট
গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী বাজারে প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৯৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটি সংযোগ সড়কের অভাবে তিন বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় সেতুটি এখন স্থানীয়দের নানা অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছে এবং এর ওপর বসছে সাপ্তাহিক হাট।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী বাজার এলাকায় ধাত্রী নদীর ওপর ১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘ তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। প্রায় ৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য জনসাধারণের যাতায়াত সহজ করা হলেও, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ত্রুটির কারণে তা কোনো কাজেই আসছে না।
প্রাসঙ্গিক তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে এই সেতুটির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এরপর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু সেতুটি নির্মাণের মূল শর্ত বা পূর্বশর্ত হিসেবে সংযোগ সড়ক তৈরির কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে সেতুটি নির্মাণের পর থেকেই এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যায়নি।
দীর্ঘ সময় ধরে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি এখন স্থানীয় নানা কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই সেতুর ওপর নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক হাট বসে। শুধু তাই নয়, সেতুটির ওপরের অংশে সাধারণ মানুষের চলাচলের পরিবর্তে কাঠ, ধান ও কাঁঠাল বিক্রি করা হচ্ছে, যা জননিরাপত্তা ও সেতুর স্থায়িত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুটিতে লাগানো বৈদ্যুতিক বাতি, বিভিন্ন ধরনের নাট-বল্টু মাদকসেবীরা খুলে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। সেতুটি চালু থাকলে এ সুযোগ পেত না। এলাকার সাধারণ মানুষও এই অব্যবহৃত অবস্থার অবসান দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আগের ঠিকাদার সেতু নির্মাণকাজ শেষ করলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ শুরু করতে পারেননি। তবে সংযোগ সড়ক বাদে বাকি বিল তাদের পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে এবং এটি যান চলাচল উপযোগী করা হবে।
উল্লেখ্য, এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে জাগো নিউজ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হবে এবং জনদুর্ভোগ লাঘব হবে।








