শিশুর পেশিতে টান: কারণ ও করনীয়
শিশুর অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা শরীর থেকে পানি ও খনিজ কমে যাওয়ার কারণে পেশিতে টান বা মাসল ক্র্যাম্প হতে পারে। এই সমস্যা দেখা দিলে আক্রান্ত পেশি ধীরে ধীরে স্ট্রেচ ও হালকা ম্যাসাজ করা যেতে পারে। তবে বিনা চিকিৎসায় কোনো ধরনের সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, রাত ১০:৪৭· ১ মিনিট পড়া

শিশুর শরীরে বিভিন্ন কারণে পেশিতে টান বা মাসল ক্র্যাম্পের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুর অতিরিক্ত খেলাধুলা, দৌড়ানো বা শারীরিক পরিশ্রমের পর এই ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুরা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নড়াচড়া বা কায়িক পরিশ্রম করে, তখন তাদের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
এই সমস্যার ক্ষেত্রে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পায়ের পেছনের পেশি বা কাফ মাসলে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। খেলাধুলা বা দৌড়ঝাঁপ করার সময় হঠাৎ করেই এই পেশিগুলোতে টান ধরতে পারে, যা শিশুর জন্য অস্বস্তিকর।
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াও আরও কিছু শারীরিক জটিলতার কারণে পেশিতে টান ধরতে পারে। জ্বর, ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও খনিজ উপাদান কমে গেলে পেশিতে টান পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কারণ, শরীরের সঠিক কার্যক্ষমতার জন্য পর্যাপ্ত পানি ও খনিজের ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি।
পেশিতে টান লাগলে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। এই সমস্যা দেখা দিলে আক্রান্ত পেশি ধীরে ধীরে স্ট্রেচ করা এবং হালকা ম্যাসাজ করা যেতে পারে। এতে পেশির সংকোচন ও টান ভাব কিছুটা কমতে পারে এবং শিশু আরাম বোধ করতে পারে।
তবে এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিনা চিকিৎসায় নিজে থেকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়া শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
পেশিতে টান পড়ার সমস্যাটি যদি ঘন ঘন হতে থাকে অথবা এর সাথে অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকে, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ময়মনসিংহের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. মানিক মজুমদার এই বিষয়ে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।








