শাহবাগের শিশুপার্ক আধুনিকায়ন কাজ ৭ বছর ধরে বন্ধ
রাজধানীর শাহবাগের শহীদ জিয়া শিশু পার্কটি সাত বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় শিশুদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা ও সাধারণ নাগরিকরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত শহীদ জিয়া শিশু পার্কটি দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজের ধীরগতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই পার্কটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী ও বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের আগস্টে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় শিশুপার্ক আধুনিকায়ন প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়।
পার্কটির আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য মোট ৭৮ কোটি টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংকের হিসাবের কথা রয়েছে। এর মধ্যে সামগ্রিক কার্যক্রমে ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, ৪৮৩ কোটি টাকা এবং ১২০ কোটি টাকার বিষয় ছাড়াও ৪৪১ কোটি টাকা এবং ১৫টি রাইডের আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এত বড় বাজেট ও পরিকল্পনা থাকার পরও কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই পার্ক নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার একটি প্রজন্মের শিশুদের শৈশবের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। এজন্য সরকারকে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি পার্কের কাজটি যাতে দ্রুত সময়ে শেষ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় মুসা আহমেদসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা যুক্ত রয়েছেন।
পার্কটি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয়রা। জাহাঙ্গীর আলম নামের এক নাগরিক আক্ষেপ করে জানান, আগে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিভাবকরা বাচ্চাদের নিয়ে এখানে আসতেন। মাত্র ১০ টাকায় ছয়টি রাইড ব্যবহার করতে পারত শিশুরা। ছুটির দিনগুলোতে পার্কে কোলাহল লেগে থাকত। কিন্তু এখন সংস্কারের নামে পার্কটি সাত বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরে আতাউর নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, সরকারি ছুটির দিনে অনেক বাবা-মা শিশুদের নিয়ে এই পার্কে আসেন। কিন্তু পার্কের কাজ শেষ না হওয়ায় মন খারাপ করে ফিরে যান। যাওয়ার সময় অধিকাংশ অভিভাবকই সরকার তথা সিটি করপোরেশনের সমালোচনা করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই প্রকল্পটি দেখভাল করছে। সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও শেখ ফজলে নূর তাপসের আমল পেরিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি এসে দাঁড়িয়েছে।
জনগণের এই তীব্র সমালোচনার মুখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম পার্কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর পার্কের সংস্কার কাজের খোঁজখবর নিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি, এবার প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের জুনে পার্কটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে শিশুদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে এবং পার্কটি নতুন রূপে সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।








