শাদরাক বাইফিল্ডের ১৮৫১ সালের আত্মজীবনী ও নতুন নথিপত্র আবিষ্কৃত
১৮১২ সালের যুদ্ধের ব্রিটিশ ভেটারান শাদরাক বাইফিল্ডের দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া ১৮৫১ সালের আত্মজীবনী ও নতুন archival রেকর্ড আবিষ্কৃত হয়েছে। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির ড. ইমোন ও’কিফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির লাইব্রেরি থেকে এই দুর্লভ বইটির অনুলিপি খুঁজে পান।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৮১২ সালের যুদ্ধের ব্রিটিশ ভেটারান শাদরাক বাইফিল্ডের জীবন ও কর্ম নিয়ে নতুন তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। তার দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া ১৮৫১ সালের আত্মজীবনী এবং বেশ কিছু archival রেকর্ড আবিষ্কৃত হয়েছে, যা তার যুদ্ধোত্তর জীবন সম্পর্কে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ তুলে ধরে। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. ইমোন ও’কিফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির লাইব্রেরি থেকে এই দুর্লভ আত্মজীবনীর একটি বেঁচে থাকা অনুলিপি আবিষ্কার করেন।
আবিষ্কৃত এই বইটির শিরোনাম হলো 'History and Conversion of a British Soldier', যা ১৮৫১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। শাদরাক বাইফিল্ড মূলত একজন ইংরেজ ভেটারান ছিলেন যিনি ১৮১২ সালের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধে তার বাম হাতের কুনুইয়ের নিচের অংশ হারিয়েছিলেন। এরপর তিনি একটি কাস্টম প্রোস্থেসিস বা কৃত্রিম হাত তৈরি করে ব্যবহার করেছিলেন। তার যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পূর্ববর্তী বিবরণটি এর আগে ১৮৪০ সালে 'A Narrative of a Light Company Soldier's Service' নামে প্রকাশিত হয়েছিল।
ড. ইমোন ও’কিফ তার এই গবেষণা লব্ধ ফলাফল জার্নাল অফ ব্রিটিশ স্টাডিজ-এ প্রকাশ করেছেন। শাদরাক বাইফিল্ডের জীবনের ওপর আলোকপাত করে ড. ও’কিফ বলেছেন, বাইফিল্ডের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছুটা জানা গেলেও পর্দার পেছনের মানুষটি এতদিন অধরা রয়ে গিয়েছিলেন। তার জীবন সম্পর্কে এই নতুন বিবরণগুলো ব্রিটিশ ভেটারানদের যুদ্ধোত্তর দুর্ভোগ এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য স্থিতিস্থাপকতা সম্পর্কে অসাধারণ অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।
বাইফিল্ড তার আত্মজীবনীতে যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধোত্তর জীবনের নানা কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। শারীরিক যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এটি এখন প্রভু আমাকে আমার ডান কাঁধে তীব্র বাতব্যথা দিয়ে আক্রান্ত করতে সন্তুষ্ট করেছে, যেখান থেকে মাস্কেট বলটি কেটে বের করা হয়েছিল। তিনি প্রায় তিন বছর এই অবস্থায় ছিলেন এবং প্রায়শই নিজের হাত মাথায় তুলতে পারতেন না, এমনকি মুখে এক কাপ চাও তুলতে পারতেন না।
যুদ্ধোত্তর জীবনে নানা ধরনের হয়রানি ও বাধার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। নিজের ওপর চলা অন্যায়ের বর্ণনা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তারা এসে আমাকে ধাক্কা দিত এবং আমার মুখে থুতু ফেলত, এই আশায় যে আমি যেন তাদের আঘাত করি, যাতে সম্ভব হলে আমার পেনশন কেড়ে নেওয়া যায়। তারা রিপোর্ট করেছিল যে আমি দুই ডিকন গুলি করার ইচ্ছা করেছি। তবে নিজের শারীরিক প্রতিকূলতা ও সাহসিকতার কথা বলতে গিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছিলেন যে, এক হাত নিয়ে তার সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে এমন কোনো মানুষ তিনি দেখেননি।
এই নতুন archival রেকর্ড ও ১৮৫১ সালের আত্মজীবনী আবিষ্কারের মাধ্যমে শাদরাক বাইফিল্ডের জীবনের বহু অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। গ্লুচেস্টারশায়ার, ইংল্যান্ড এবং ক্লিভল্যান্ড, ওহাইও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি ও ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই গবেষণাটি ব্রিটিশ সামরিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে সামনে এসেছে।








