শরীয়তপুরে শ্রী সত্যনারায়ণ মন্দিরের পুরোনো ঘর ভাঙা নিয়ে বিরোধ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রী সত্যনারায়ণ সেবা মন্দিরের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দির কমিটি ও ভক্তদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানি এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রী সত্যনারায়ণ সেবা মন্দিরের দীর্ঘ ৪০০ বছরের ইতিহাস রয়েছে। এই মন্দির প্রাঙ্গণে থাকা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় মন্দির কমিটি ও ভক্তদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ডিঙ্গামানি এলাকার এই মন্দিরের শ্রী রামঠাকুর ঘর, নাগ মন্দির ও ভোগ ঘর—এই তিনটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই মন্দিরের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মন্দিরের পুরোনো স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভক্ত হারাধন চক্রবর্তী বলেন, 'তিনটি ভবন ভাঙা ঠিক হয়নি। এগুলো ঠাকুরের সময়কার স্মৃতি।' এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্য ভক্তরাও।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শিল্পী রানী চক্রবর্তী বলেন, 'এটা ঠাকুরের বাড়ি ছিল। এখানে তিনি থাকতেন এবং ধ্যান করতেন। এই বাড়িটি রাখার জন্য অনেকে চেষ্টা করেছিলেন।' কিন্তু সব চেষ্টার পরও ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, মন্দির কমিটির ভেতরেও এই ভাঙার প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ ও অসন্তোষ রয়েছে। এ বিষয়ে ত্রিনাথ ঘোষ বলেন, 'ভাঙার বিষয়ে কমিটির অনেকেই অবগত নয়।' কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, মন্দির কমিটি ও পুনর্নির্মাণ উদ্যোগের পেছনের যুক্তি তুলে ধরে মুকুল চন্দ্র রায় জানান, 'মন্দিরের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। মন্দিরটি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে শ্রী রামঠাকুর ঘর, নাগ মন্দির ও ভোগ ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে।'
সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত এই সংক্রান্ত তথ্যের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনের নজরেও বিষয়টি এসেছে। এ বিষয়ে তাহসিনা বেগম জানিয়েছেন, 'মন্দির বা মন্দিরের কোন অংশ কারা এবং কেন ভাঙছে, সে ব্যাপারে খোঁজ নেবেন। সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি দেখবেন।' ঐতিহ্যবাহী এই মন্দির প্রাঙ্গণের পুরোনো স্থাপনা ভাঙার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহল এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।








