ল্যাবরেটরি বা লিবিয়া থেকে ১৭৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় লিবিয়ার তাজৌরা আটককেন্দ্র থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁরা পৌঁছান।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। লিবিয়ার ত্রিপোলির তাজৌরা আটককেন্দ্রে বন্দি ছিলেন তাঁরা।
ফিরে আসা যাত্রীদের মধ্যে মশিউর রহমান ও সোহেল মিয়া প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন, যখন তাঁরা গাবতলী বা গুলস্থানের পথে ছিলেন। মশিউর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, কুয়েত ও মিসর হয়ে ৯ মাস পর তিনি লিবিয়ায় যান। দালালের মাধ্যমে তাঁর পরিবারকে ৩২ লাখ টাকা দিতে হয়েছিল। সমুদ্রে ৩০ বাংলাদেশি ও ৪ মিসরীয়কে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে লিবিয়ার বাহিনীর হাতে আটক হয়ে তিনি তাজৌরা আটককেন্দ্রে বন্দী হন এবং সেখানে ৪৫ দিন বন্দী ছিলেন। মশিউর রহমান বলেন, ২০০ জনের ধারণক্ষমতার একটি কক্ষে প্রায় ৫০০ জনকে রাখা হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, 'লম্বা লম্বা পাইপ তাদের হাতে থাকত। কথা নাই বার্তা নাই ধুমধুাম মাইরা দিত।'
বন্দী জীবনের কষ্ট বর্ণনা করে মশিউর রহমান আরও বলেন, 'এই খাবার না খাইয়া কোনো রাস্তা ছিল না। কারও পেটই ভরত না ভাই। খাবারের সময় কেউ না কেউ কান্না করত। আর বাকিরা সান্ত্বনা দিত।' বিমানটিতে ওঠার পর তাঁর অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, 'ভাতের দিকেই চাইয়া ছিলাম ভাই, মুখে কী দিব? বিমানে ভাত দেইখাই পেট ভরে গেছে।'
আরেক প্রত্যাবর্তনকারী সোহেল মিয়া জানান, তিনি ১৪ মাস ধরে মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, কুয়েত ও মিসর হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। এই যাত্রার জন্য তাঁকে ৩৯ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। সৈন্যদের দ্বারা আটক হওয়ার পর তাঁকেও তাজৌরা আটককেন্দ্রে রাখা হয়। ৪৮ দিন পার করে তিনি দেশে ফিরেছেন।
সোহেল মিয়া কষ্টের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, 'ওইটা কি ঈদের দিন? সারা দিন কান্না করছি আর আল্লাহরে কইছি, মাবুদ, আমারে দেশ না দেখাইয়া নিয়ো না।' ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, 'আইওএম বলেছে, কিছু টাকা পাব আমরা। যদি দেশে একটা অটোরিকশার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, খেটেখুটে দেনা পরিশোধ করব। আর বিদেশে যেতে চাই না। পরিবার নিয়ে কষ্ট করে চলব, কিন্তু বিদেশের নাম আর নেব না।'
এই পুরো প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং লিবিয়া থেকে আটকে থাকা নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আইওএম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবশেষে তাঁদের স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।








