আইওএম ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির যৌথ উদ্যোগে ছায়া সংসদ বিতর্ক
আইওএম এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও রেমিট্যান্স বিনিয়োগ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিজয়ী হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লরা টম বনদ এবং সভাপতিত্ব করেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

আইওএম এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় একটি ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও রেমিট্যান্স বিনিয়োগ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে রেমিট্যান্স ও অভিবাসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লরা টম বনদ।
অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশ যৌথভাবে এই ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. এস এম মোর্শেদ, দৌলত আক্তার মালা, মাঈনুল আলম, ফারুক মেহেদী, আহমেদ রেজা এবং ঈশিতা শ্রুতি।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে লরা টম বনদ বলেন, প্রতিটি রেমিট্যান্স বাংলাদেশি অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রম, সহনশীলতা ও প্রতিশ্রুতির সাক্ষ্য বহন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রেমিট্যান্সের একটি অংশ এসএমই-তে বিনিয়োগ করলে তা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করাসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ উন্মুক্ত করতে পারে। এছাড়া তিনি জানান, বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও মানসম্মত করতে এবং অভিবাসীদের সুরক্ষায় আইওএম সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অভিবাসীদের রেমিট্যান্সের কারণেই দেশের অর্থনীতির দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে এবং তাদের প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তিনি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দেশের রিয়েল হিরো ও অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির মূল নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি রেমিট্যান্স স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ তার বক্তব্যে আরও পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান যে, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনশক্তির প্রায় ২৫ শতাংশেরই কর্মসংস্থান হয় অভিবাসনের মাধ্যমে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান না থাকলে দেশের দারিদ্রতার হার আরও ১০ শতাংশ বেড়ে যেত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, রেমিট্যান্সের কারণে অভিবাসী ভাই-বোনদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ছে এবং তারা দরিদ্রতা থেকে মুক্ত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, এখন সময় এসেছে রেমিট্যান্সের অর্থ শুধু ভোগে ব্যয় না করে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগ করা। এসএমই খাতে রেমিট্যান্সের বিনিয়োগ অভিবাসী পরিবারের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই যৌথ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অভিবাসী ও রেমিট্যান্সের গুরুত্ব এবং এর সঠিক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।








