রুশ প্রেসিডেন্টের কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর, জাপানের তীব্র প্রতিবাদ
বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপ সফর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান এবং দেশটিতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের দ্বীপ ইতুরুপ সফর করেছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং রুশ নৌবাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পুতিনের এই সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
কুরিল দ্বীপপুঞ্জের এই অংশটি নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। জাপান এই দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। টোকিও কর্তৃপক্ষ দ্বীপগুলোকে 'উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল' বা এতোেরোফু বলেও অভিহিত করে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপগুলো নিজেদের দখলে নেয়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপগুলো দখলের পর সেখানকার প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করেছিল। পরবর্তীতে এই অঞ্চলে জনবসতি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ২০ হাজার রুশ নাগরিক বসবাস করছেন।
পুতিনের এই ইতুরুপ সফরের পর তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি উভয়েই রুশ রাষ্ট্রপতির এই সফরের কঠোর সমালোচনা ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই সফরের জেরে অসন্তোষ প্রকাশ করতে জাপানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।
জাপানের এই প্রতিবাদের জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, জাপান রাশিয়াকে তাদের জন্য প্রধান হুমকি বলে মনে করছে। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে বলতে চান যে, তারা জাপানের জন্য কোনো হুমকি নন; বরং জাপানই উল্টো তাদের ভূখণ্ডের ওপর মালিকানা দাবি করে আসছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই কুরিল দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে মস্কো ও টোকিওর মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারেনি। পুতিনের এই সাম্প্রতিক ইতুরুপ সফর দুই দেশের মধ্যকার চলমান সেই ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা নিয়ে উভয় দেশের নীতিনির্ধারক মহলে নানা আলোচনা চলছে।








