রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নতের অনুসরণ ও এর অসামান্য ফজিলত
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের অনুসরণের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে আলোচনা। সুন্নতের আঁকড়ে ধরার সওয়াব এবং জান্নাত লাভের নানা দিক ইসলামি নির্দেশনায় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইসলাম ধর্মে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের অনুসরণ করা এবং তা আঁকড়ে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইসলামিক বিভিন্ন নথিপত্র ও নির্দেশনায় সুন্নতের অনুসরণের পক্ষে নানা আধ্যাত্মিক পুরস্কার ও বরকতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মুমিন জীবনের পথচলাকে নির্দেশিত করে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সুন্নতের অনুসরণের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, 'বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন।' এই নির্দেশনার মাধ্যমে মহান আল্লাহর ভালোবাসা ও ক্ষমা পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হিসেবে রাসুলের আনুগত্যকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
উম্মতের চরম অবক্ষয়ের সময়েও সুন্নতের ওপর অবিচল থাকার বিশেষ মর্যাদার কথা হাদিসে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'আমার উম্মতের অবক্ষয়ের সময় যে ব্যক্তি আমার কোনো সুন্নত আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য এক শত শহীদের সওয়াব রয়েছে।' এই ঘোষণা বর্তমান সময়েও সুন্নতের ওপর আমল করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ ও এর শর্ত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, 'আমার উম্মতের প্রত্যেকেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যে অস্বীকার করবে, সে ছাড়া।' এই কথা শোনার পর সাহাবিরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'আল্লাহর রাসুল, কে অস্বীকার করবে?' তখন নবীজি (সা.) উত্তর দিয়েছিলেন, 'যে আমার আনুগত্য করবে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে, সে-ই অস্বীকার করল।'
নবীজির প্রতি ভালোবাসা এবং পরকালের সঙ্গী হওয়ার সুসংবাদ সম্পর্কে একটি হাদিসে বলা হয়েছে, 'যে আমার সুন্নতকে ভালোবাসল, সে আমাকে ভালোবাসল, আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে বেহেশতে আমার সঙ্গে থাকবে।' এ প্রসঙ্গে অন্য এক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, 'তুমি তার সঙ্গেই থাকবে, যাকে তুমি ভালোবাসো।'
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে আরও এরশাদ করেছেন, 'আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করবে, সে তাদের সঙ্গে থাকবে, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—তাঁরা হলেন নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সৎকর্মশীল। আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী!' এই আয়াত ও হাদিসগুলোর মাধ্যমে মুমিনদের জন্য পরকালের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির ওয়াদা করা হয়েছে।
সকল কাজের গ্রহণযোগ্যতার মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'নিশ্চয়ই কাজের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভরশীল আর প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে।' পাশাপাশি সৎকাজের প্রচার ও প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেছেন, 'যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ দেখায়, সে তা সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।'








