যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ
অর্থায়ন, স্বর্ণের মজুদ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও পর্যটনে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে বিভিন্ন দেশ। ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স তাদের স্বর্ণের মজুদ সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া নরওয়ে ও জার্মানির মতো দেশগুলোও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে আনছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অর্থায়ন, স্বর্ণের মজুদ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং পর্যটন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে তাদের নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক এই প্রবণতাটি অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতিতে। পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বিভিন্ন পদক্ষেপে এই চিত্র ফুটে উঠেছে।
এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নেদারল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে তাদের মোট ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে। ইউরোপের আরেকটি বড় দেশ ফ্রান্সও নিউ ইয়র্ক থেকে তাদের সব স্বর্ণ সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নিয়েছে। স্বর্ণের মজুদ নিরাপদ করার এই উদ্যোগ বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের ওপর একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বর্ণের মজুদ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক নীতিতেও পরিবর্তন আনছে ইউরোপীয় দেশগুলো। নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে তাদের বিনিয়োগ কমানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর ঐতিহ্যগত আস্থার জায়গাটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নির্দেশ করে।
শুধু অর্থনীতি বা অর্থায়ন নয়, পর্যটন খাতেও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্ভরতায় ভাটা পড়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে মার্কিন পর্যটন শিল্পে এই নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর স্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে। তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্পের মেয়াদ শুরুর পর থেকে জার্মান নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে ২৫ শতাংশ কমে গেছে। ভ্রমণ কমার এই প্রবণতা মার্কিন পর্যটন খাতের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব ও নির্ভরতা হ্রাসের এই প্রক্রিয়াটি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে। ১০টি দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই পরিবর্তনের সাথে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।








