মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে পানি ও ধূলিকণা শনাক্ত
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত 'আইআরএস ৩' নামের মুমূর্ষু তারার চারপাশে পানি ও মহাজাগতিক ধূলিকণা শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ অভিযানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞানীরা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত 'আইআরএস ৩' নামক মুমূর্ষু তারার চারপাশে পানি ও মহাজাগতিক ধূলিকণা শনাক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা বা ইএসএ যৌথভাবে এই শক্তিশালী টেলিস্কোপটি পরিচালনা করে থাকে। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল রয়েছে এবং এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রগুলো সবচেয়ে বৈরী পরিবেশগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিচিত।
গবেষণায় অংশ নেওয়া কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফ্লোরিয়ান পাইসকার এই পরিবেশ সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন, গ্যালাক্সির কেন্দ্রগুলো সবচেয়ে বৈরী পরিবেশগুলোর অন্যতম। আমরা দেখেছি ধূলিকণা উৎপাদনপ্রক্রিয়া অত্যন্ত সহনশীল থাকে। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে আইআরএস ৩ নামের তারাটি শ্বেত বামন নক্ষত্রে পরিণত হয়ে নিজের বাইরের স্তর মহাকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে যে, তারাটি সূর্যের চেয়ে ছয় গুণ ভারী এবং এর তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার ৮০০ কেলভিন। এছাড়া তারাটি প্রতি সেকেন্ডে ১৫ কিলোমিটার গতিতে রয়েছে এবং এর চারপাশে ১০ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট বিস্তৃত ধূলিকণার আবরণ রয়েছে। গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে এটি প্রায় ১৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং এর বয়স প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ বছর।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার বিজ্ঞানী ম্যাকারেনা গার্সিয়া মারিন এই আবিষ্কার সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন, এই প্রথম তারাটির একটি ধারাবাহিক মিড-ইনফ্রারেড স্পেকট্রাম সংগৃহ করা হয়েছে। এটি সিলিকেটের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে এবং তারাটির আসল রাসায়নিক পরিচয় উন্মোচন করতে সাহায্য করেছে। পানির অস্তিত্ব শনাক্ত করা বিশেষভাবে রোমাঞ্চকর। তীব্র বিকিরণ বিশিষ্ট পরিবেশেও আণবিক উপাদান টিকে থাকতে পারে বলে এটি প্রমাণ করে। এটি আমাদের বলে যে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি থেকেও তারাগুলো তাদের চারপাশে উপাদান ফিরিয়ে দেওয়া চালিয়ে যেতে পারে।
এই অভূতপূর্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে মহাকাশের সবচেয়ে জটিল ও বৈরী পরিবেশেও তারার উপাদান টিকে থাকার এবং তা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের এই সাফল্য মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।








