মূল কনটেন্টে যান
ব্রেকিং
BDRevise24 — Trusted & Targeted News

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — HEADER

মহানবী (সা.)-এর দ্বিতীয় শাম সফর ও বাণিজ্য পরিচালনা

খ্রিষ্টীয় ৫৯৫ অব্দের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে মুহাম্মদ (সা.) খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের বাণিজ্য কাফেলার নেতৃত্ব দিয়ে সিরিয়ার বুসরায় যান। এই ঐতিহাসিক সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন খাদিজার বিশ্বস্ত কর্মচারী মাইসারা।

বিডিরিভাইস২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: · আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:০২· মিনিট পড়া

মহানবী (সা.)-এর দ্বিতীয় শাম সফর ও বাণিজ্য পরিচালনা
ছবি: প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — ARTICLE_TOP

খ্রিষ্টীয় ৫৯৫ অব্দের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দ্বিতীয় শাম সফর ও বাণিজ্য পরিচালনা। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর। মক্কা থেকে সিরিয়ার বুসরা পর্যন্ত এই দীর্ঘ বাণিজ্যিক যাত্রার দূরত্ব ছিল ১,৩০০ থেকে ১,৬০০ কিলোমিটার এবং নির্দিষ্টভাবে প্রায় ১,৩৫০ কিলোমিটার। এই দূরহ পথ পাড়ি দিতে এবং বাণিজ্য পরিচালনা করতে সে যুগে সময় লাগত আড়াই থেকে তিন মাস।

এই ঐতিহাসিক সফরের প্রাক্কালে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন সময়ে তাঁর অভিভাবক চাচা আবু তালিব। তিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে ডেকে বলেন, ভাতিজা, আমি এক কপর্দকহীন মানুষ। দিন দিন আমাদের অবস্থা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই মুহূর্তে খুওয়াইলিদের মেয়ে খাদিজার একটি কাফেলা শামের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি তাঁর বাণিজ্যের জন্য বিশ্বস্ত লোক খুঁজছেন। তুমি যদি তাঁর কাছে গিয়ে প্রস্তাব করো, তবে তোমার সততার সুনামের কারণে তিনি নিশ্চিতভাবেই তোমাকে অগ্রাধিকার দেবেন।

চাচার এই পরামর্শের পর মুহাম্মদ (সা.) সম্ভ্রান্ত কুরাইশ নারী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের বাণিজ্য কাফেলার প্রতিনিধি হিসেবে সিরিয়ার বুসরায় গমণ করেন। এই বাণিজ্যিক অভিযানে খাদিজার বিশ্বস্ত কর্মচারী মাইসারা সহকারী হিসেবে তাঁর সঙ্গে সফরসঙ্গী হন। মক্কা থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল বাণিজ্য কাফেলাটি দক্ষতার সঙ্গে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায় এবং সফলভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল এই কাফেলা। সিরিয়ার বুসরায় পৌঁছানোর পর সেখানকার এক পাদ্রি বা খ্রিষ্টান সাধক নাসতুর মুহাম্মদ (সা.)-কে দেখে বিস্মৃত হন এবং মাইসারার কাছে কৌতূহল প্রকাশ করে বলেন, গাছের নিচে বিশ্রামরত এই যুবকটি কে? এর জবাবে মাইসারা তাঁকে জানান যে, তিনি মক্কার হারাম সীমানার বাসিন্দা, কুরাইশ বংশীয় এক সম্মানিত যুবক।

এই বাণিজ্যের সফল পরিচালনা এবং সফর শেষে মক্কায় ফিরে আসার পর খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) মুহাম্মদ (সা.)-এর অসাধারণ সততা, আমানতদারি ও ব্যবসায়িক দক্ষতা খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে মহানবী (সা.) তাঁর জীবনাচরণ ও অতীতের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, মা হালফতু বি-হিমা ক্বাত্তু, ওয়া ইন্নি লা-আমুররু ফা-উ’রিদু আনহুমা...

খ্রিষ্টীয় ৫৯৫ অব্দে সম্পন্ন হওয়া এই দ্বিতীয় শাম সফর মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ২৫ বছর বয়সে মক্কা থেকে সিরিয়ার বুসরা পর্যন্ত প্রায় ১,৩৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আড়াই থেকে তিন মাস সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এই বাণিজ্য সফলভাবে পরিচালনার মাধ্যমে তিনি তাঁর অতুলনীয় সততা ও বিশ্বস্ততার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — IN_ARTICLE

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

সব দেখুন
মালদ্বীপে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব
ধর্ম

মালদ্বীপে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব

মালদ্বীপের পর্যটনকেন্দ্রিক রিসোর্ট এলাকার বাইরে স্থানীয় দ্বীপগুলোতে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব রয়েছে। রাজধানী মালে শহরে ৩০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে এবং এখানে ১৬৫৮ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক হুকুরু মিস্কি অবস্থিত। ইউনেসকোর ঐতিহাসিক বিবরণে মালদ্বীপে ইসলাম গ্রহণের সময়কাল ১১৫৩ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১ মিনিট পড়া
পিতামাতার আর্থিক অসদাচরণ ও প্রতারণায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
ধর্ম

পিতামাতার আর্থিক অসদাচরণ ও প্রতারণায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে পিতামাতার প্রতি সর্বোচ্চ সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তাদের অনৈতিক বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সন্তানের সম্পদে অন্যায়ভাবে দেনা তৈরি করা সম্পূর্ণ হারাম।

১ মিনিট পড়া
তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণ করলেন শেভন নামের পর্যটক
ধর্ম

তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণ করলেন শেভন নামের পর্যটক

তুরস্কের মারদিন প্রদেশের আরতুকলু জেলা মুফতির কার্যালয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন শেভন নামের এক পর্যটক। ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ রাখেন।

১ মিনিট পড়া
ওহুদের ময়দানে শহীদ হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)
ধর্ম

ওহুদের ময়দানে শহীদ হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)

ওহুদ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শহীদ হন হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)। অপবিত্র অবস্থায় গোসল না করেই রণক্ষেত্রে যোগ দেওয়ায় ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়েছিলেন বলে জানান মহানবী (সা.)। এই অলৌকিক ঘটনার কারণে তিনি 'গাসিলুল মালাইকা' বা ফেরেশতা কর্তৃক গোসলপ্রাপ্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।

১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — FOOTER