মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি দুই দেশের ৬০ দিনের প্রাথমিক সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাত ও যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত ইরানের সঙ্গে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ার পরই হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এই কৌশলগত পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাইল বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি রয়েছে। এই বিশাল ভূখণ্ডে মার্কিন প্রায় ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান এই বিধ্বংসী সংঘাতে এসব ঘাঁটির নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এই সংঘাতে অন্তত ছয় জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, দুই শতাধিক মার্কিন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা মার্কিন সামরিক কমান্ডের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) নির্ধারিত মেয়াদ গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা চলছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনা হচ্ছে না।
যুদ্ধের এই ভয়াবহতা ও মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পটভূমিতে আঞ্চলিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের মেরুকরণ শুরু হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নতুন এই আঞ্চলিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শক্তিগুলোর সামরিক হস্তক্ষেপ ‘দ্রুত কমছে’। বাঘের গালিবাফের মতে, এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন এই অঞ্চল থেকে একটি সম্মানজনকভাবে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।
মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের এই গুঞ্জনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। আঞ্চলিক ভূরাজনীতির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পতিত হয়েছে।








