মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
৯ মাসের সামরিক অভিযান শেষে প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও ক্রু সদস্য নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে দীর্ঘ সামরিক অভিযান শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও ক্রু সদস্য নিয়ে এই রণতরীটি এখন নিজেদের মূল ঘাঁটির পথে রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে এই রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক অভিযানে মোতায়েন ছিল। এই সুদীর্ঘ সময়ে এর কার্যকাল ও উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
অভিযান চলাকালীন ২৭২ দিনের মধ্যে মাত্র দুবার সমুদ্রে নিজেদের অবস্থান থেকে বিরতি নিয়েছে এই রণতরীটি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সান দিয়েগো পর্যন্ত পৌঁছাতে রণতরীটির প্রায় ১৩ হাজার মাইল সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হবে এবং এর জন্য চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় নিজেদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন নৌশক্তি ও সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইউএস নেভি প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে। এই বিশাল নৌবহরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশসহ অন্যান্য সামরিক ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা যুক্ত রয়েছে।
রণতরীটির এই বিদায়লগ্নে মার্কিন সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অভিযানের সমাপ্তি একটি বড় অধ্যায়। মার্কিন প্রশাসনের ডেমোক্রেটিক পার্টি সংশ্লিষ্ট নীতি ও সামরিক কৌশলগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই মধ্যপ্রাচ্যে এই রণতরিগুলোর পালাবদল ঘটে থাকে।
বিদায়ের মুহূর্তে ইউএস নেভির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "শুভযাত্রা। শিগগিরই প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হবে।" এই বার্তার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নয় মাসের ক্লান্তিহীন সমুদ্রযাত্রার অবসান ঘটিয়ে নাবিকদের স্বদেশের প্রিয়জনদের কাছে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।








