ব্রাজিলের উপকূলে ইনফ্লুয়েন্সারকে নার্স শার্কের আক্রমণ
ব্রাজিলের উপকূলে পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য হাঙরকে খাবার দেওয়ায় এক ইনফ্লুয়েন্সার নার্স শার্কের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে হাঙরের সঙ্গে কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ব্রাজিলের উপকূলে গত এপ্রিল মাসে নার্স শার্কের আক্রমণের শিকার হয়েছেন তায়ানে ডালাজেন নামের এক ইনফ্লুয়েন্সার। এই ঘটনার পেছনে পর্যটন আয়োজকদের অনিয়মের বিষয় সামনে এসেছে। সাত ফুটের বেশি লম্বা একটি নার্স শার্ক তার উরুতে শক্তভাবে কামড় বসায় এবং এর ফলে তার শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তায়ানে ডালাজেন জানান, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটছে, কারণ হাঙরগুলো পানির উপরিভাগে চলে এসেছিল এবং সেখানে প্রচুর হাঙর ছিল। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে, ট্যুর আয়োজকরা পর্যটকদের সঙ্গে হাঙরের মিথস্ক্রিয়া ঘটানোর জন্য মূলত তাদের খাবার দিচ্ছিলেন।
আক্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তায়ানে ডালাজেন বলেন, যখন শার্কটি তাকে কামড় দেয়, তখন ব্যথার তীব্রতা ছিল ভীষণ বেশি। তবে তিনি শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন ওই প্রাণীর সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিয়ান পার্টন বিবিসিকে জানান, তিনি এখন প্রতি সপ্তাহেই এ ধরনের ভিডিও দেখতে পাচ্ছেন, যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, এভাবে চলতে থাকলে মানুষ একসময় হাঙরের সঙ্গে সত্যিই মারাত্মক সব দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ওশেন রামসে নামের অপর এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার কাজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন যে, তার কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্য কখনোই ভিউ অর্জন করা ছিল না, বরং তার লক্ষ্য ছিল হাঙরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি জানান, তার কাজের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা, গবেষণা নিবন্ধে অবদান রাখা এবং ডেটা সংগ্রহ করা।
ওশেন রামসে আরও উল্লেখ করেন যে, তার বেশিরভাগ কাজই শার্ককে সম্মান জানানো এবং দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি হাঙরের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং হাঙর নিজেই প্রথমে যোগাযোগের পথ বেছে নেয় বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষেরও কিছু জবাবদিহিতা থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তবে এই যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন ড. জ্যাক কুপার। তিনি বলেন, হাঙরের কাছে গিয়ে তাকে স্পর্শ করা বা চড়ে বসা কীভাবে শার্ক সংরক্ষণে সাহায্য করছে তা তিনি কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারেন না। তার মতে, এর মাধ্যমে কেবল একজন মানুষের দ্বারা একটি শার্কের হয়রানিই দেখানো হয়, যা অতিরিক্ত মাছ শিকার রোধ বা শার্কের সুরক্ষা নীতি প্রণয়নে কোনো ভূমিকা রাখে না।
আন্তর্জাতিক শার্ক অ্যাটাক ফাইলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্ররোচনা ছাড়াই ঘটা হাঙরের আক্রমণ গত ৩০ বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় ৭০টি কামড়ের ঘটনায় মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে কম সময়ের মধ্যে অন্তত তিনজন ইনফ্লুয়েন্সার হাঙরের কামড় খাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতার পাশাপাশি বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।








