বোনদের ওয়ারিশী সম্পত্তি আত্মসাতের পরিণতি নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর আলোচনা
বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে বোনদের ওয়ারিশী সম্পত্তি আত্মসাতের পরিণতি নিয়ে কঠোর আলোচনা করেছেন। তিনি সমাজে নারীদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি না দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বোনদের ওয়ারিশী সম্পত্তি আত্মসাতের পরিণতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নারীদের হক বঞ্চিত করার প্রবণতার বিরুদ্ধে তিনি কড়া বার্তা দেন।
আলোচনা প্রসঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহ উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে একটি বিশেষ প্রশ্ন রাখেন এবং সমাজে এর বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আপনাদের এই গ্রামের মধ্যে কে কে বুক ফুলিয়ে হাত তুলে বলতে পারবেন যে, বাবার মৃত্যুর পর জমিজমা, ভিটাবাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স ও প্রপার্টি থেকে বোনের পাওনা কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দিয়েছেন?
তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মূলত সমাজে প্রচলিত অবিচারের চিত্রটিই ফুটে ওঠে। অধিকাংশ পরিবারেই যে বাবার মৃত্যুর পর মেয়েদের বা বোনদের তাদের আইনগত ও ধর্মীয় পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়, সে বিষয়টি তার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই নানা অজুহাতে বোনদের অংশ আত্মসাৎ করে থাকেন।
ইসলাম ধর্মে নারী বা বোনদের জন্য সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট অংশ নির্ধারিত থাকলেও বাস্তব সমাজে তার সঠিক প্রয়োগ দেখা যায় না। এই প্রসঙ্গেই শায়খ আহমাদুল্লাহ বোনদের ওয়ারিশী সম্পত্তি আত্মসাতের মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তার এই আলোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
জাগো নিউজ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আগামী ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর বিশেষ এই আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ইসলামি শরিয়তের বিধান এবং নারীদের অধিকারের বিষয়টি নতুন করে অনুধাবন করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইসলাম ধর্মে উত্তরাধিকার আইনে ৪০ শতক বা ২০ শতকের মতো জমির হিসেব বা অন্যান্য সম্পত্তির বণ্টনে নারীদের সুনির্দিষ্ট অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সামাজিক কুসংস্কার বা লোভের বশে সেই সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হয় না। শায়খ আহমাদুল্লাহ তার আলোচনায় কড়ায়-গণ্ডায় এই হক বুঝিয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
পরিশেষে, শায়খ আহমাদুল্লাহর এই ওয়াজ মাহফিলের আলোচনা কেবল একটি নির্দিষ্ট ওয়াজ নয়, বরং এটি সমগ্র সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। বোনদের পাওনা সম্পত্তি আত্মসাৎ করার পরিণতি যে অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে, তিনি তার বক্তৃতায় সেই বার্তাই বারবার স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।








