বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় ট্রাম্পের নীতির প্রভাব ও পরিবর্তন
ওয়াশিংটনে ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট ফ্রিডম ২৫০ গ্র্যান্ড প্রিক্স রেসে অংশ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এককবাদী ও জাতীয়তাবাদী পররাষ্ট্রনীতি বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রভাব ও আদর্শগত পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই ধারা একটি বিশেষ রূপ লাভ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতি মূলত আদর্শবাদ, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান এবং পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন শাসন কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই পুরনো ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের রূপান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির একটি বড় উদাহরণ দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে। ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ফ্রিডম ২৫০ গ্র্যান্ড প্রিক্স রেসের শুরুর মুহূর্তে জাতীয় সংগীতের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প স্যালুট জানান। এই ইভেন্টটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন মার্কিন রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর নীতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে এককবাদ বা ইউনিল্যাটারালিজম এবং লেনদেনভিত্তিক জাতীয়তাবাদ বা ট্রানজ্যাকশনাল ন্যাশনালিজম। এই নীতির মাধ্যমে ঐতিহাসিক মিত্রতা ও অংশীদারিত্বগুলোর নতুন মূল্যায়ন বা রিক্যালিব্রেশন করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত ভূমিকা এবং কূটনীতির ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী যুগে জাতিসংঘ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, ন্যাটো এবং এএফপি ও আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক মাধ্যমের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে যে বহুপক্ষীয় কাঠামোর কথা বলা হয়ে থাকে, ট্রাম্পের নীতি তার বিপরীত ধারা প্রকাশ করে। ঐতিহ্যগত আদর্শবাদী কূটনীতির পরিবর্তে ওয়াশিংটনের বর্তমান প্রশাসন বাস্তবসম্মত ও চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
এই ধরনের পরিবর্তন বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর রূপরেখা নির্ধারণে ট্রাম্পের এই দৃষ্টিভঙ্গি নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। ঐতিহাসিক জোটগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের এই প্রক্রিয়া বিশ্বরাজনীতিতে মার্কিন নীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এই এককবাদী ও জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই প্রভাবিত করছে না, বরং এর ঢেউ আছড়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও। বিশ্বমঞ্চে মিত্র ও প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের এই নতুন কৌশল আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রচলিত নিয়মগুলোকে চ্যালেঞ্জ করছে।








