মূল কনটেন্টে যান
ব্রেকিং
BDRevise24 — Trusted & Targeted News

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — HEADER

বিশ্বাসী হৃদয়ের ক্ষত সারানোর আধ্যাত্মিক উপায় ও কিংসুগির শিল্প

বিশ্বাসী হৃদয়ের ভাঙা মন ও ক্ষত আধ্যাত্মিক উপায়ে সারানোর বিষয়টি ইসলামি শিক্ষা এবং জাপানি কিংসুগি শিল্পের আলোকে আলোচিত হয়েছে। এতে আল্লাহর পবিত্র নাম আল-জাব্বার এবং বিশেষ দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

বিডিরিভাইস২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· মিনিট পড়া

বিশ্বাসী হৃদয়ের ক্ষত সারানোর আধ্যাত্মিক উপায় ও কিংসুগির শিল্প
ছবি: প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — ARTICLE_TOP

মানবজীবনে দুঃখ-কষ্ট এবং ভাঙা হৃদয়ের ক্ষত সারানোর ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের এক গভীর ভূমিকা রয়েছে। মানুষের জীবনে নানা কারণে মন ভেঙে যেতে পারে, যেগুলোর নিরাময় কেবল বস্তুগত উপায়ে সম্ভব হয় না। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের মন ও আত্মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ইসলামি শিক্ষা এবং একটি প্রাচীন শিল্পরীতির তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে।

জাপানি সংস্কৃতিতে ভাঙা মৃৎপাত্র সোনা বা রূপার বার্ণিশ দিয়ে মেরামত করার একটি প্রাচীন শিল্প রয়েছে, যা কিংসুগি নামে পরিচিত। কিংসুগি শিল্পে মৃৎপাত্রের ভাঙা অংশগুলোকে লুকিয়ে না রেখে বরং স্বর্ণালি প্রলেপ দিয়ে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। ঠিক একইভাবে মানুষের জীবনের ভাঙা মন ও হৃদয়ের ক্ষতগুলোও সুন্দরভাবে জোড়া লাগতে পারে বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়ায়।

ইসলাম ধর্মে আল্লাহ তাআলার অনেক সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো 'আল-জাব্বার'। এই পবিত্র নামের অর্থ হলো মহা পরাক্রমশালী বা বাধ্যকারী। একই সঙ্গে এই নামের অর্থ এমন সত্তাকে বোঝায় যিনি ভাঙা হাড় জোড়া লাগান অথবা মানুষের ভাঙা হৃদয় নিরাময় করেন। ফলে মুমিন মুসলমানরা যখন বিপদে পড়েন, তখন তারা আল-জাব্বারের ওপর ভরসা করে সান্ত্বনা খুঁজে পান।

জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মুমিনদের করণীয় সম্পর্কে রাসুল (সা.) অত্যন্ত সুন্দর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিনের প্রতিটি বিষয়ই আশ্চর্যজনক! তার সবকিছুতেই কল্যাণ নিহিত থাকে। যদি সে সুখ ও আনন্দের মুখ দেখে, তবে শোকর আদায় করে—তা তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর যদি সে দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়, তবে সে ধৈর্য (সবর) ধারণ করে—সেটিও তার জন্য মহা কল্যাণের কারণ হয়।

দুঃখ-কষ্ট ও হতাশা দূর করতে এবং আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করতে ইসলামে দোয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সালাতের মধ্যে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার নানা নিয়ম রয়েছে। নামাজে দুই সিজদার মাঝখানে একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করা হয়, যা বান্দাকে আল্লাহর আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়।

নামাজে দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে একটি সুনির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করার বিধান রয়েছে। রাসুল (সা.) শিখিয়ে যাওয়া সেই দোয়াটি হলো: 'আল্লাহুম্মাগফির লি, ওয়ারহামনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি'। এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত, হৃদয় নিরাময় বা সান্ত্বনা, সঠিক পথ এবং রিজিক প্রার্থনা করে থাকেন।

পরিশেষে বলা যায়, জাপানি কিংসুগি শিল্পের মতো মানুষের ভাঙা মনকেও বিশ্বাস ও দোয়ার মাধ্যমে সুন্দরভাবে পুনর্গঠন করা সম্ভব। ইসলামি শিক্ষা এবং আল-জাব্বারের স্মরণ মানুষের জীবনের সকল দুঃখ-কষ্ট ও ভাঙা হৃদয়কে জোড়া লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — IN_ARTICLE

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

সব দেখুন
মালদ্বীপে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব
ধর্ম

মালদ্বীপে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব

মালদ্বীপের পর্যটনকেন্দ্রিক রিসোর্ট এলাকার বাইরে স্থানীয় দ্বীপগুলোতে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব রয়েছে। রাজধানী মালে শহরে ৩০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে এবং এখানে ১৬৫৮ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক হুকুরু মিস্কি অবস্থিত। ইউনেসকোর ঐতিহাসিক বিবরণে মালদ্বীপে ইসলাম গ্রহণের সময়কাল ১১৫৩ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১ মিনিট পড়া
পিতামাতার আর্থিক অসদাচরণ ও প্রতারণায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
ধর্ম

পিতামাতার আর্থিক অসদাচরণ ও প্রতারণায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে পিতামাতার প্রতি সর্বোচ্চ সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তাদের অনৈতিক বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সন্তানের সম্পদে অন্যায়ভাবে দেনা তৈরি করা সম্পূর্ণ হারাম।

১ মিনিট পড়া
তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণ করলেন শেভন নামের পর্যটক
ধর্ম

তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণ করলেন শেভন নামের পর্যটক

তুরস্কের মারদিন প্রদেশের আরতুকলু জেলা মুফতির কার্যালয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন শেভন নামের এক পর্যটক। ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ রাখেন।

১ মিনিট পড়া
ওহুদের ময়দানে শহীদ হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)
ধর্ম

ওহুদের ময়দানে শহীদ হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)

ওহুদ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শহীদ হন হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)। অপবিত্র অবস্থায় গোসল না করেই রণক্ষেত্রে যোগ দেওয়ায় ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়েছিলেন বলে জানান মহানবী (সা.)। এই অলৌকিক ঘটনার কারণে তিনি 'গাসিলুল মালাইকা' বা ফেরেশতা কর্তৃক গোসলপ্রাপ্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।

১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — FOOTER