বিশকেক সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পেলেন রাজনৈতিক সমর্থন
বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে ইরানের ওপর সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাজনৈতিক সমর্থন লাভ করেন। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ ও বা বাণিজ্যের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চলতি সপ্তাহে বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সমর্থন লাভ করেছেন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং মধ্য শক্তি কূটনীতির প্রেক্ষাপটে এবারের এই সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং বৈশ্বিক বহুমেরুকরণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
চলতি সপ্তাহের এই সম্মেলনে ইরানের ওপর সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে চলা আলোচনা ও উদ্বেগের ধারাবাহিকতায় বিশকেক সম্মেলনে এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তেহরানের প্রতি একটি জোরালো কূটনৈতিক বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশকেক সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই নেতার আলাপকালে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
আলোচনাকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই জলপথটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। নরেন্দ্র মোদির এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিকস, ইসরায়েল, ন্যাটো, তুরস্ক, ব্রাজিল, ভারত, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ এবং কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় ও প্রেক্ষিত নিয়ে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা বজায় রয়েছে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মধ্য শক্তি কূটনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টিও এই সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
বিশকেক সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের রাজনৈতিক সমর্থন লাভ এবং বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও মনোভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।








