হরমুজ প্রণালীতে ইরানি হামলায় নিহত ২, ট্রাম্পের নাম বদলের প্রস্তাব
হরমুজ প্রণালীতে সৌদি মালিকানাধীন সুপারট্যাংকরে ইরানি হামলায় দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। এর মধ্যেই প্রণালীটির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সৌদি আরবের মালিকানাধীন একটি সুপারট্যাংকারে গত সোমবার রাতে ইরানি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীতে সংঘটিত এই নিরাপত্তা ঘটনায় দুজন ফিলিপিনো নাবিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি ‘বাহরি’ এক বিবৃতিতে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। বাহরির মালিকাধীন ‘সিদ্র’ নামের সুপারট্যাংকারটি এই নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছিল। কোম্পানিটি গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, এই অনভিপ্রেত ঘটনায় তাদের দুই ফিলিপিনো নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা বক্তব্যে হরমুজ প্রণালীটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ (Trump Strait) করার পরামর্শ দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি এই নাম পরিবর্তনের কথা বলেন।
এদিকে, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার শিকার সুপারট্যাংকারটিসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চল নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংস্থা তথ্য প্রকাশ করেছে। আল জাজিরা, বিবিসি ওয়ার্ল্ড, এএফপি এবং রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যম এই সংঘাত ও এর প্রভাব নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। সোমবার এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ট্যাংকারের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়েছে। বর্তমান সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।








