বায়তুল মোকাররামে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন শুরু
২৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আগামী ২৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-১৪৪৮ হিজরি উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পবিত্র এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায় এক আধ্যাত্মিক ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ণাঢ্য জীবন ও আদর্শের ওপর বিশদ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ বিশ্ব মানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। তার চরিত্রে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পরম মমত্ববোধের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। দরিদ্র, এতিম, অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি তিনি ছিলেন মমতাশীল। বর্তমান সমাজের নানা সংকট থেকে মুক্তি পেতে তার এই মহান গুণাবলি ও জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণের ওপর প্রধান অতিথি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
রাসূল (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। রাসুল (সা.) এর বিদায় হজের ভাষণে মানব মর্যাদা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক অধিকারের যে মহান শিক্ষা উচ্চারিত হয়েছিল, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আজকের বিশ্বে হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, উগ্রতা, মিথ্যা ও নৈতিক অবক্ষয়ের যে বিস্তার ঘটছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি মহানবী (সা.) অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সমন্বয়ে যে সমাজব্যবস্থা, পারস্পরিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আমাদের জাতীয় জীবনে অনুসরণীয়। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মহানবীর এই সুমহান আদর্শ আমাদের সমাজকে আরও সুসংহত করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে প্রধান অতিথি জানান, বর্তমান সরকার ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি, কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানি ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। ২০৩০ সালের আগে প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় মাসিক সম্মানি ভাতার আওতায় আসবে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সেবাদানকারীদেরও সম্মানি ভাতা প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে দেশ ও জাতির ঐক্য, শান্তি এবং অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বক্তারা বিভেদ ও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর কখনও ফিরে না আসে, সেজন্য রাসূল (সা.)-কে অনুসরণ করে এবং ধর্মের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির মর্মবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশবাসীর মাঝে গভীর আধ্যাত্মিক ভাব ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।








