বাধার মুখে সংস্কৃতিচর্চা: গত ১৫ মাসে ১১টি আয়োজনে বাধা
তৌহিদী জনতা ও ইমাম-ওলামা পরিষদের আপত্তি ও চাপের মুখে দেশের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট, বাউল গান ও নৌকা বাইচসহ অন্তত ১১টি সাংস্কৃতিক আয়োজন বাতিল ও পণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে আরও ৩৬টি আয়োজন বাধার মুখে পড়েছে। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, সংস্কৃতিচর্চা বন্ধ হলে যুবসমাজ বিপথে যাবে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংস্কৃতিচর্চা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে 'তৌহিদী জনতা' এবং 'ইমাম-ওলামা পরিষদ'-এর মতো বিভিন্ন দলের আপত্তি ও চাপের মুখে কনসার্ট, বাউল গানের আসর, নৌকা বাইচসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল ও পণ্ড হওয়ার ঘটনা ঘটছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মাসের মধ্যে অন্তত ১১টি সাংস্কৃতিক আয়োজনে সরাসরি তৌহিদী জনতার ব্যানারে বাধা দেওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর বাইরে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগ তুলে আরও ৩৬টি সাংস্কৃতিক আয়োজন বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
গত ১৯ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইমাম-ওলামা পরিষদের আপত্তির মুখে ব্যান্ড 'অ্যাশেজ' এবং গায়ক নোবেলের একটি কনসার্ট বাতিল করা হয়। এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া সিলেটের বিশ্বনাথে ইব্রাহিম শাহের মাজারের পাশে একটি বাউল গানের আসরেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রখ্যাত নাট্যজন মামুনুর রশীদ এ প্রসঙ্গে বলেন, সংস্কৃতি অঙ্গনের কোনো আয়োজন নিয়ে আপত্তি থাকলে অনুষ্ঠান বন্ধ না করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। যে কোনো আয়োজন নিয়ে আপত্তি উঠলেই বন্ধ করতে হবে কেন। আমাদের সংস্কৃতিচর্চা তো আবহমানকাল ধরেই চলে আসছে। সেটি কেন এখন বাধার মুখে পড়বে। সংস্কৃতিচর্চা বন্ধ হলে তো দেশের যুবসমাজ বিপথে যাবে। দেশও পিছিয়ে পড়বে।
অপর এক প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, সংস্কৃতিচর্চায় বাধা আমরা কোনো সময়ই কামনা করি না। এসব বাধা আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। আমরা চাই, সবাই যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজ নিজ সংস্কৃতিচর্চা করতে পারে, সে সুযোগ যেন অবারিত থাকে। উল্লেখ্য, আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাউল গানকে ২০০৮ সালে ইউনেস্কো মানবতার অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ডিরেক্টরস গিল্ডের সংশ্লিষ্টরা এবং নাট্যজন অনন্ত হীরা জানান, তাঁরা মুক্ত পরিবেশে থিয়েটার করতে অভ্যস্ত। গেল বছর বাধার মুখে তাঁরা মহানগর নাট্যোৎসব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সে সময় সরকারের সাহায্য চেয়েও পাননি। এ রকম ঘটনা সারা দেশেই ঘটছে, যেখানে কালচারাল অ্যাক্টিভিটিজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে একটি গোষ্ঠী সংস্কৃতিচর্চাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে; যা আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার এর একটা সুন্দর সমাধান দেবে।








