বাংলাদেশে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মৃত্যু
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও casualties আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে এবং চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৯৭ জন মারা গেছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও প্রাণহানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে মোট ৯৭ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ জন।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। চলতি বছরের জুনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২,৯০৭ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। এরপর জুলাই মাসে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় ৯,২০৬ জনে এবং মারা যান ৩৬ জন।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় আগস্ট মাসে। এই এক মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০,৫৩৬ জন। অর্থাৎ, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। চলতি বছর দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
রোগতরোগ, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যেভাবে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা আমাদের দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বেশি হবে বলে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি এবং তা নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলতে পারে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে লিঙ্গভেদেও তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ নারী এবং ৪৩ শতাংশ পুরুষ রয়েছেন।
রাজধানীর বাইরেও ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে ব্যাপকভাবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুধু পিরোজপুরেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১,৫৩৫ জন এবং ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১,৩৩১ জন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশা নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী জানিয়েছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় হলো মশা নিয়ন্ত্রণ করা। তাই আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জাতীয় পর্যায়ে ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হটস্পট চিহ্নিত করার পর সরকারের সব স্তরের জনবল ও জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা নিয়ে লার্ভা ধ্বংসের পরামর্শ দেওয়া হবে।








