বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে
২০২৪ সালের জুলাই ও অগাস্ট মাসে বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ডিজিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ১৯শে অগাস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭৬ জন মারা গেছেন এবং আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ২৬ হাজারের বেশি হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৪ সালের জুলাই ও অগাস্ট মাসে বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা ডিজিএইচএস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৯শে অগাস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭৬ জন মারা গেছেন এবং আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ২৬ হাজারের বেশি দাঁড়িয়েছে। জুলাই মাসের তুলনায় অগাস্ট মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৯শে অগাস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নয় হাজার ২০০-এর বেশি ডেঙ্গু রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর এই প্রাদুর্ভাব এখন শুধু রাজধানী ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের বিভিন্ন জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানী ঢাকায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩৪ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাত হাজারের বেশি রোগী। তবে ঢাকার বাইরে চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে খুলনা জেলায়। জাতীয় নদী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং বিবিসি বাংলার তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৬০০ জনেরও বেশি এবং মারা গেছেন মোট ১৪ জন।
অন্যান্য জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৯১ জন এবং মারা গেছেন তিনজন। পিরোজপুরে এ বছর এখন পর্যন্ত এক হাজার দু'শোর বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন একজন। এছাড়া ময়মনসিংহ জেলায় ৯২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ছয় জন। অন্যদিকে, গাজীপুরে এখন পর্যন্ত ৭২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির জন্য বিভিন্ন পরিবেশগত ও সামাজিক কারণকে দায়ী করেছেন। বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, চট্টগ্রাম আর ঢাকা একই রকম। পাহাড়ি এলাকা জনবিরল হলে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু যখন সেটি ঘনবসতিপূর্ণ হয়, তখনই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে।
আরেক বিশেষজ্ঞ মনজুর আহমেদ চৌধুরী বর্তমান জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আগে এত হাড়িপাতিল, পাত্র পাওয়া যেত না। এত ছাদবাগান ছিল না। এখন গ্রামেও অনেক মানুষ প্লাস্টিক বা পাত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে, যা মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।








