বয়স বাড়লে কেন বদলায় শরীরের গন্ধ? জানা গেল কারণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহের ত্বকে বিশেষ রাসায়নিক যৌগের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই পরিবর্তনের পেছনের কারণ ও নির্দিষ্ট যৌগের নাম উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহের ত্বকের গন্ধে পরিবর্তন আসার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে। গবেষকদের মতে, বয়স বাড়ার এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে একটি বিশেষ রাসায়নিক যৌগ। মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ত্বকে এই উপাদানটির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে।
এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী রাসায়নিক যৌগটির নাম হলো ২-নোনেনাল (2-nonenal)। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষের ত্বকের তেল বা সিবাম যখন বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে এবং জারিত হয়, তখনই এই ২-নোনেনাল যৌগটি তৈরি হয়। ত্বকের স্বাভাবিক জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি উৎপাদিত হয়।
জাপানি গবেষকেরা প্রথম এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করেছিলেন। তাঁরা ২০০১ সালে সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন যে, মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে ২-নোনেনালের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে নানা আলোচনা ও গবেষণা শুরু হয়।
গবেষণায় আরও জানা গেছে যে, মানুষের জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর থেকে এই উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। সাধারণত মধ্যবয়স বা চল্লিশোর্ধ্ব বয়স থেকেই মানবদেহের ত্বকে এই ২-নোনেনাল উপাদানটি বাড়তে শুরু করে। বয়স বৃদ্ধির এই শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনটি তাই চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
এই পুরো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পেছনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের অবদান রয়েছে। এর মধ্যে পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মোনেল কেমিক্যাল সেন্সেস সেন্টার এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এ ছাড়াও এই গবেষণায় গবেষক সোনাল চৌধুরী যুক্ত ছিলেন, যিনি এই বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি এবং গবেষণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।








